Print

গোমরাহী

আরোহণযোগ্য সব চতুষ্পদ প্রাণী মানে
শরীরে অধিক শক্তিশালী,
বুদ্ধিও প্রবল তবে মানুষের বশীভূত।
মানুষেরা যেন বুদ্ধির জাহাজ
        সাগরের বুকে-পিঠে পারা দিয়ে চলে।
আকাশ বিদীর্ণ করে আর পলকে পৃথিবী চষে
            হাওয়া ধাওয়া বাতাসী জাহাজ,
চাঁদের গরিমা দেখা-
        বুকের বোতাম খুলে চন্দ্রস্তনে চমক বিহার,
গ্রহে-উপগ্রহে সানন্দ বিস্তার।

অথচ প্রশান্তি আপা, মানুষের বড়ো বোন
স্বামীকে হারিয়ে কাঁদে, সাদা শাড়ি, গোমরাহী যুগ !
এতো যুদ্ধ, প্রহসন, অস্ত্রের বৈভব,
কান বন্ধ করে রাখলেও হৃদয়কে ফুটো করে ছোটে
        মিসাইল মহড়া-স্যাটেলাইট, আত্মম্ভরিতা।

প্রশান্তি আপার স্বামী নাকি ধর্মগ্রন্থ ধরে বলেছিলো
কামান দাগানো দিন ধরে ধরে
আসবে প্রলয়, বিন্দু বিন্দু জল থেকে সোমত্ত সাগর
অণু অণু থেকে পরমাণু, বিশ্বযুদ্ধের ভিলেন
মহাপ্রলয়ের রথে চড়ে দেখতে আসবে সেই
        রোজ কিয়ামত উৎসব, মহড়া চলছে
বিবাদী মানুষ-মন প্রশান্তি আপার স্বামী খেয়ে
এবার দখলে নেবে নান্দনিক বিশ্বকলার সবুজ বোন
        মিস ইউনিভার্স, সু-শান্তি সুভদ্রা, তোমাকেও!

অতি-অস্ত্রের সওয়ারীতে নষ্ট মানুষের আরোহণ দেখে
কষ্ট মানুষেরা ভাবে পৃথিবী অতলে যায়, যাক
আরেকটি স্বর্গসীমা উঠি উঠি করে, বিমূর্ত বেহাগ
        সেটাই উঠুক, তবু শুদ্ধতায় ঋদ্ধ
মন-মগজের কোরক ফুটুক।