গান নায়কের গল্প
ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালি মুর্শিদী গানে
যে গায়ক যুগে যুগে মধু ঢালে কানে
গাড়িয়াল ভাই আর নদী অঞ্জনা
সুর আর হৃদয়ের সেকি ব্যাঞ্জনা,
ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে যে সুরে
‘ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে’ ও
এতো রাতে কেনো ডাকে, গান বাঁধে কে ও
রঙিলা নায়ের মাঝি, নদী কুল খোঁজে,
আগা নায়ে ডুবু ডুবু, জলগীতি বোঝে।
খরা বোঝে, ধরা বোঝে, কৃষিকাজ, তাকে
মেঘ চেয়ে, পানি চেয়ে আল্লাকে ডাকে।
গেয়েছিলো সব গান, সম্প্রীতি গীতি
রবীন্দ্র-নজরুল, কলকাতা স্মৃতি,
কোচবিহারের সুর সারা বাংলায়
অমূল্য সম্পদ, খাঁটি গান গায়,
দেশভাগ হলে পরে, আবাস ঢাকায়
গান আর সংগ্রাম জীবন চাকায়।
বধু বাড়ি রংপুর, ডোমারের নারী,
উত্তরবঙ্গের সুর-সংসারী।
রেডিওতে তার গান, সুচনায় শুরু
বাংলাতে গায়কীতে তিনি যেন গুরু।
নদীর এ কুল ভাঙে, অন্যটি গড়ে
কুল ও কিনার নাই, তবু গেছে লড়ে
সঙ্গীতে, সংসারে শিরোমণি, লোক
সন্তান শিক্ষিত, সেরা বিচারক।
আর দুটি ছেলে মেয়ে গান প্রিয় মুখ
পতœী-প্রজন্মের লেখনীতে সুখ।
শিল্পী জীবন কথা, নিজে লিখেছেন,
কলকাতা-ঢাকা ছুঁয়ে কি কি শিখেছেন...
গান গেয়ে জল আনা, বৃষ্টিকে বশ,
কী করে জীবন জয়, এতো নাম যশ,
বিদেশেও বাংলার গান ফেরি’অলা
কুলু কুলু স্রোত সুর, উত্তাল গলা।
কতো সভা, জনসভা, প্রভুকে স্মরণ
গানের নায়ক তিনি, সতত বরণ।
উনিশ শ এক যার জন্মের সাল
ঊনষাট বছরেই আয়ুহীন পাল...
শরীর হারালো তবে সুর চলমান,
হারালো না জারি-সারি, দোতরার গান
লাঙ্গল-চাষীকে নিয়ে সে কি সুর-স্বর
গানগুলো পৌঁছালো অভিজাত ঘর।
রুচি এলো সঙ্গীতে, সুরে-গানে স্বাদ
তদের কারণে গান পেলো ঘর, ছাদ।
বাংলায় কতো গুণী, তিনিও তো চেনা
আব্বাউদ্দীন, অগ্রণী সেনা
গান নিয়ে, মান নিয়ে খেঁটেছেন আর
হেঁটেছেন বাংলার এপার ওপার,
হাজার বছর হাাঁটা লোকগীতি-ঘোর
সুরে-প্রাণে বাঁচালেন হৃত ফোকলোর।
হিন্দু বা মুসলিম সম্প্রীতি গীতে
মিলনের গান বেঁধে নিলো প্রাণ জিতে।
বাংলায় ঈদ মানে গানের তাগিদ
রমজান রোজা শেষে এলো খুশি ঈদ,
যতোদিন ঈদ আছে, ততোদিন প্রাণ
আব্বাসউদ্দীন, আর চিরগান!
বাঙালির শেকড়ের মূলে যার বাস
চিরজীবী গান-পাখি মহা আব্বাস!