Print

বেলুন-মানুষ

মৃত্যুর মুখোশ পরে আসে প্রিয়দিন জন্মদিন।
আনন্দদিনের ধারাপাত তবু
ভালোবাসার নামতা পড়ে
           একেককে এক, পাঁচেককে পাঁচ

অংকের সঙ্গে-পাশে যেমন বসাতে হয় শুন্য,
শূন্যস্থান পূরণের জন্যে যেমন প্রজন্ম
নারীতে যেমন কোল ঘেঁষে বসেন পুরুষ
শিশুরা কোলের রথে পরিতৃপ্ত হাস্যময়,
সেভাবেই জন্মদিনে মুখ টিপে হাসে মৃত্যুপাখি

কেককাটা কাঁচি নিভৃতে কাটে আয়ুর পতাকা,
জন্মদিনের রঙিন মোমগুলো রহস্যে পুড়তে থাকে
আগামী শরীর,
আমি তাই জন্মদিনেই জন্মনাশের হিসাবের খাতা  খুলি,
বেলুন ফাটিয়ে বলি, এ যে আমারই বিনাশ,

এরপর আরেক বেলুনে, আরও জন্মদিন
আবার বেলুন সোৎসাহে আয়ু দিয়ে ফুঁ দেবে
উৎসবের নামতা পড়া বেলুন-মানুষ।
জন্মদিনের ঘনত্ব- পাপ

জন্মদিন এতো ঘন ঘন আসে যে
স্বপ্ন আর সাফল্যের সঙ্গে বেঁধে যাচ্ছে তুলনা বিরোধ।

আমি ভাবলাম, এ বছর আকাশ পথেই হাঁটি,
অথচ মেঘেরা, বৃষ্টি বৃষ্টি খেলে পাল্টিয়ে দিচ্ছে
ঋতুর সাজানো ক্যালেন্ডার।
সড়কের যানজট এতোটাই সংক্রামক যে
বিমান ও আলস্যদোষে কাবু আর আমি
আমার মনুষ্য সাইক্লোজী যখন নামবো-পথে।

হাঁটা-ছোটা-ঘোড়া-গাড়ি ট্রেন লঞ্চ-স্টিমার-বিমান
অথবা বাইসাইকেল শুধুই এগুতে চাই।
অথচ ছুটির বন্যা, জলাদ্ধূতা হরতাল অবরোধ
তোমাদের পঙ্গুনৃত্য, মুদ্রার রহস্য গুনতে গুনতে
লিখে ফেললাম : জন্মদিন, তুমি ভুল গ্রহে
করেছো পদলেহন।

জন্মানন্দ শব্দটি অতীব সুপ্রিয়,
মৃত্যুভয় অথবা-মৃতাতংক্র সেও সক্রিয়
তদুপরি, জন্মোৎসবের লগ্নটি নিয়ে
আমার মিনতি আছে।

তিনশত পয়ষট্টির বদলে পাঁচশ দিন পর,
অথবা হাজার দিন,
সেলিব্রেশন অব থাউজেন্ড ডেজ
টু থাউজেন্ড, টেন থাউজেন্ড
এভাবে খানিক আয়ু- বাড়িয়ে   আসুক জন্মদিন,
নতুন স্বপ্নতালিকা আর কর্যতালিকার সঙ্গে     
বেড়েছে বিরোধ,

জন্মহারের ঘনত্ব প্রধান দেশে তাই
জন্মদিনের ঘনত্ব এবার কমাতে চাই।