লোকজ গানের সাথী
সমাবেশ শিল্পী-কবির, সুরময় সংস্কৃতি,
প্রবাসে বেহালা-দিন, মাটি-মন মানস-প্রীতির।
যে জীবন কর্মমুখর, স্মৃতিতে মা জননী
যে বুকে ভাটিয়ালি, মুখেতে রা শোনেনি
সময়ের এ-ফোঁড় ও-ফোঁড়, তারা আজ বাঁধ মানেনা,
তারা আজ ঘন্টা-ডলার প্রবাসের ফঁদি মানে না,
তারা আজ সমাবেশে শিকড়ের গানের টানে
লোকজ সুরের নেশায় সুধা নেয় কানে কানে।
সমাবেশ গান-কবিতার, গাঁ-গেরাম পল্লীগীতির
ধুলো পথ সবুজ বাগান; বা অলি-গল্লি সমৃতির,
আজকে সাঁতার দিবস, ভেলা-সুর সাঁতরিয়ে যাই;
বাউলের সুর-সাগওে সোন-সুখ হাতড়িয়ে যাই,
প্রাপ্তি অন্যরকম, ক্ষোভ নেই লাভ বা ক্ষতির
আজকে শিল্পী সবাই, বাঁধা নেই সভাপতির !
আজকে সবাই লালন, হাছনের ঘরের জামাই
আব্বাস-আলীম হয়ে মেঘ হতে বৃষ্টি নামাই।
কালীদাস মেঘের কবি, কৃষিকবি খনার বচন
কলা রুয়ে না কেটো পাত, নবকলার উন্মোচন,
এ কলা শিল্পকলা, কি কঠিন বাঁচিয়ে রাখা
বাঙালির নিজ চেতনায় মেলেছে পেখম-পাখা।
চাঁটগার শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব শেফালী ঘোষ
খাওয়াতো পানের খিলি, গান আহা কি নির্দোষ !
‘ও ডাইল পাকাও বাহে, কাঁচা মরিচ দিয়’
হরলাল ভাওয়াইয়া পুত, গেয়েছে মরমিয়।
হিন্দু-মুসলমানে, গ্রামের নৌজোয়ানে
ধর্মে ধর্মে মিলন, শাহ্ আবদুল করিম জানে।
কতোনা সাধক কবি ‘শুন্যেও মাঝার’ দিয়া
কতোনা গান শুনেছি পুণ্যের মাজার গিয়া
কতোনা বাদন-সাধন, তাল লয় রমেশ শীলে
শীতালং আরকুম শাহ্-কতো সুর হাওড় বিলে।
সুর ভাঁজে পুঞ্জি-পাহাড়, বৈসাবী বনজ গীতি
বছরের বরণ মানে বোশেখে গানের রীতি।
সাঁওতাল রাখাইন বলো, জাত বা উপজাতি
সকলে গানের পাগল, লোকজ গানের সাথী।
বাণী সুরে আব্দুল লতিফ, লোকো কবি জসিমউদ্দীন,
গান দিয়া কান্দিয়া হায় রাজ করে আব্বাসউদ্দীন।
ঈদ আসে রোজা শেষে, উৎসব মাতাল তালে
শারদীয় পুজো মাতায় নব নব কানাইলালে
গীর্জায় নীরব গীতল, বুদ্ধের নীরবতায়
মধুসুর মন্ত্রবিহীন, আত্মার শুদ্ধিকথায়
সুরেরা ঐন্দ্রজালি, হাম্দ বা নাতের ধ্যানে,
সে মানুষ আসল মানুষ, যে আছে গানের প্রাণে।
কৃষিমুখ, শ্রমিক মাঝি, হাটুওে গাড়ি চালক
আশি ভাগ লোক-মানুষের হৃদয়ে গানের আলোক।
কে বলে লোকো-গীতি হুমকি ক্ষতির মুখে
আমি বলি লোকজ গানই রয়েছে সম্মুখে,
দেখেছি বাজার ঘাটে, বিপণন সর্বাধিকে
সজমা-সজলিশে হায় হৃদয়ের নাড়ীটিকে
যে পাওে মোচড় দিতে, বলে যায় মনের কথা,
দেখেছি গিনেজ বুক এ গানের সার্থকতা।
প্রবাসে লোক-গীতি, পারেনি হারিয়ে যেতে
উৎসব-আবাহনে উটেছে মানুষ মেতে।
ধন্য একুশ শতক, সূচনা লোক-গীতিতে
উৎসব দ্বি-বছওে, আয়োজন এই রীতিতি,
সমাবেশ গান কবিতার, নৃত্য যাত্রা পালা
সেমিনার উত্তরণের, মতামত কথার মালা,
সমাবেশ মূল বাঙালির, আয়োজন মিত্রদেরও
অধিকার বাঁশি-বাদন, কারুকার; চিত্রদেরও।
রয়েছে মেলার আমেজ, প্রবাসে কে আর দিতো?
লোকজ সংস্কৃতি বহয়নি পরাজিত।
বিজয়ী এই আয়োজন, বিজয়ের নতুন গাঁথা,
বিজাতির লজ্জা শীতে এ আমার নক্শী কাঁথা।
সে কাঁথায় কাব্য লিখি, কবিতা সুধীজনের,
সাধুবাদ সংগঠকেরম অতিথি সকল জনের।
প্রাণের এ মাতম মেলায় যারা সব পৃষ্ঠপোষক
প্রিয়মুখ উদ্বোধনের, সভাপতি সরব ঘোষক,
সাধুবাদ সাংবাদিকের, কর্মী সহযোগীর,
অতিথি স্বদেশ পাড়ের, উৎসব উপভোগীর,
সমবেত শিল্পী-কবি, বাদক ও বংশীদার
সকলেই এই কবিতার পুরোভাগ অংশিদার।
কবিতা হৃদয় সাবান অরুচির তূত শোধনের
লোকজ সংগীতে এই কবিতা উদ্বোধনের।
বিনীত বাক্যে আমার সকলে নিন শুভাশীষ,
নিজেরে নিজেই বলুন ‘গানেরে ভালোবাসিস’
লোকজ সংগীতে আজ প্রবাসে বিজয় বলয়,
চিরজীবী বিজয় মেলা, উৎসব সাফল্যময়।