মায়ের হাতের কবি
স্মৃতির পাতায় হঠাৎ ভাসে মায়ের মুখচ্ছবি -
মা আমাকে কী আদরে বানিয়ে ছিলো কবি...
মায়ের কোলে আমি শিশু, কানে মায়ের ছড়া-
কী কবিতা পদ্যে ভরা; রূপ উপমায় গড়া।
চাঁদ মামা আর বর্গী ভীতি; কাজলা দিদি খোঁজা
টিপ দিয়ে যায় মায়ের আঙুল; চোখগুলো আধ বোজা,
আদর বুঝি; আরাম বুঝি; কষ্ট বুঝি কম যে-
দুখ তাড়াতে; ঘুম বাড়াতে কাব্য দিতো সম্ঝে।
আঙুল-আদর বুকে-পিঠে; চুলে বিলির সুখ
মন ভেজানো পদ্যে-সুরে শিশু কী উৎসুক...
কাটছে ছড়া মায়ের দু’ঠোঁট খাটছে যেন টিচার,
প্রান্ত মিলে অন্ত’মিলে বানাতো রাইম-ফিচার...
দু’চোখ ভাসে অনুপ্রাসে; মায়ের সেকি চেষ্টা,
ছন্দ-ছড়ার বিনুনিতে শিশুর মহা তেষ্টা-
শব্দ মূলে আঘাত দিয়ে হচ্ছে স্বরবৃত্ত-
স্বরগ্রামে; শ্বাসাঘাতে শব্দ-সুরের নৃত্য,
মৃদু টোকার শব্দ-দোলায় মাত্রা নামের বৃত্তে
ছড়ার বাণী কান গলিয়ে বাসাও বাঁধে চিত্তে।
মাত্রা ও স্বর-বৃত্ত মানেই পদ্য-ছড়ার ছন্দ,
ছড়া গড়ার মধুর কাজে দু'টোই সেতু বন্ধ।
যেমন সেতু মা ও শিশু, যেমন মাতা শিরি-
মায়ের হাতের কবি আমি; মা'কেই খুঁজি ফিরি,
চুমুর সাথে ছন্দ-ছড়া মাখিয়ে দিতো ঠোঁটে
সেই শিশু আজ মা-মহিমায় কাব্যগুণে ফোটে।