নিরাময়পত্র
প্রেসক্রিপশন মানে নিরাময় পত্র
চিকিৎসা চাই আজ যত্র ও তত্র।
থু থু ফেলে ওয়াক থু ফুটপাথে, সড়কে
বলো দেখি এই কাজ অজান্তে করো কে?
আজ থেকে জেনে নাও এ কাজটি ঠিক না,
সবখানে ফেলা নয় চুন-পান-পিক না।
কাগজের টুকরো বা ভাঙা কাঁচ, আলপিন
এ রকম যা বাতিল যার বাড়ি ডাস্টবিন
সেগুলি ঝুড়িতে ভরো, ওয়েস্টেস বাস্কেটে
না হলে রক্ত ঝরে পেরেকে বা কাঁচ কেটে।
সাবধান সাবধান ধুলি বড়ো ক্ষতিকর
ধোয়া মোছা চকচকে উজ্জ্বল জ্যোতি-ঘর
পড়ার টেবিল বই পোশাক বা জুতো-মুজো,
সবকিছু সাফ রাখো, ডাস্টারে ধুলো গুজো।
ধুলোয় সর্দি-কাশি অ্যালার্জি ক্যানসার
সাবধানে মাটি মাখো চোখ রাখো ড্যান্সার।
ফুঁ’দিয়েই যদি চাও ধুলো কোনো ওড়াতে,
চোখ দুটো মুদে নাও এ কাজের গোড়াতে।
চোখের অনেক কাজ যত্নটা বেশি চায়,
সকাল বিকেল ধু’লে শান্তিটা বেশি পায়।
পাঁচ বেলা পানি পেলে আঙুল হাত-পা ত্বক,
আজীবন চকচকে, টকটকে ঝকঝক।
কানে তেল, নাভীতেও তুলো-কাঠি, মাঝে মাঝে
চুষে নেবে ময়লাকেÑ যতো কালো আজে বাজে।
দাঁতের ফোকরে আর নাকের কোটরে নখ
কারুর সামনে নয়, এ বড়ো বেহূদা সখ।
হাই যদি তোলো তবে হা-মুখ ঢাকবে হাতে,
দাঁতের মাজন, পেস্ট প্রভাতের আগে, রাতে
খাবারের গন্ধেরা তা নাহলে পালাবে না,
ব্রাশ করো গ্রাস-মুখে দাঁত-পোকা জ্বালাবেনা।
খুব ভালো হয় যদি সকালে বিছানা ছাড়ো,
বালিশ-চাদর সব নিজেই গোছাতে পারো,
সকালে গোসল হলে তৃপ্তির শরীরে
মনে হবে সারাদিন কতো কাজ করি রে।
কিছু কিছু কাজ শেখা লাভ আনে নিজেরই,
যেমন ফসল জানে আদি কাজ বীজেরই
নিজের পোষাক ধোয়া চা বানিয়ে পান করা,
ছুটির দিবসে রাঁধা পাক শেখা, আনকোরা।
সাঁতার জানাও ভালো ব্যায়াম তুলনাহীন,
বই-এর বিশাল গুণ পাঠেই ভুলোনা দিন।
কাগজে কিছুটা চোখ টভিতে খানিক-ক্ষণ,
আঁকা ছবি, বিজ্ঞানে অজানা মানিক-ধন।
গানের গলায় তোলো কবিতাও কিছু কিছু
ছন্দ ও নৃত্যের তাল লয় পিছু পিছু,
প্রাথমিক চিকিৎসা জেনে রাখো প্রয়োজন,
সব হোক পরিমিত দেহ, মেদ ও ওজন।
বিপদে আপদে এই ছোটো ছোটো জ্ঞান,
সংসার জীবনের বড়ো বিজ্ঞান,
বেলা বুঝে খেলা হোক, ভ্রমণ ভেলাও
মহাপ্রভু সেবা নিক হিসেব মেলাও।
অপরূপ পৃথিবীকে কী রূপে সাজাও,
তার আগে নিজ দেহ নিজেরা বাজাও।
ভালো থাকা মন-দেহে সুখ-সঞ্চয়,
নিরাময় পত্রের তাই হোক জয়।