Print

প্রমত্ত-পদ্মা এবার পদতলে

মানুষকে অনেক গিলেছো হে প্রমত্ত-পদ্মা,
এইবার মানুষের পদধূলি গিলে যাও।
তোমার বিশাল দেহে জলযাত্রাকালে
হঠাৎ হাঙর হয়ে গিলেছো অসহায়ত্ব,
মানুষকে ভেবেছিলে নিছক দাড়িকা-চুনোপুঁটি।
ভগিরথী-গঙ্গা থেকে পদ্মার দৌরাত্ম্য
জলবহনের মহারেলগাড়ি তুমিতো সমুদ্র নও,
আকাশ বা সূর্য নও, একটি নিছক নদী
স্রোতের হাত-পা ছুঁড়ে দেখালে কতোনা অহমিকা,
জাহাজ আটকে দিয়ে যাত্রীদের নিয়ে পিঁপড়ের মৃত্যুখেলা...
    লীলাভোলা-মানুষ ভোলেনি সেইসব প্রাণহরণের তুমুল তান্ডব।

নদীরও মরণ আছে, বাঁধ দেয়া আপতন আছে,
মানুষেরও মৃত্যু আছে, তবে আছে পরম্পরা
শ্রেষ্ঠত্বের গরিমায় আছে সৃষ্টির দৌরাত্ম্য।

সেতুর বাঁধনে দেখো বেঁধে ফেলে নদীর কোমর,
প্রযুক্তি পাথরে বাঁধে আট-ঘাট, তীরের শাসন,
নির্মাণ-কীর্তির ওপর দাঁড়িয়ে খোলাচোখে মানুষ দেখছে
    পায়ের তলায় বঙ্গদেশে বহমান পদ্মা-যমুনা নদীরা,
ভেসে যাচ্ছে হবে কি হবে না সেতু প্রশ্নের যদি’রা...

আর জল সঞ্চালনের চাকরি-ক্লান্ত বুড়ো নদীগুলো
মৃত্যুর প্রহর গুণে কাঁদছে, বলছে
প্লাবনের পলি; সেচ-বালি-পাথর-ঝিনুক দেবো,
মাছের মহিমা; জলভ্রমণের প্রাণযোগ, আবার প্রকৃতি
পরিবেশ-প্রতিবেশ, ভাটিয়ালি সুরের সুষমা দেবো...
তবু আমাদের বাঁচাও মানুষ, নিজেরা বাঁচতে হলে
মাটি-স্রোত, গভীরের নদীকে বাঁচাও।
সেতুজয় অভিজ্ঞতায় জলের উচ্চতায় গড়ো খামার-মাচাও!

সেতুর জনক যারা মুখ্য মানুষেরা
ধ্বংস-স্রোতের ওপরে মিলনের এপার-ওপার গড়ে,
মহাকাল মহারথে তাদের সুনাম, অবিনাশী অক্ষরে অক্ষরে।