Print

নজরুল ও আদি-অনাদি

জন্ম  আর  মৃত্যুর  বাঁধনে  এক  অদ্ভূত অভূত  সেতুবন্ধ
বর্ধমান  চুরুলিয়া থেকে ঢাকার বৈভবী  বিদ্যাতীর্থে,
                         সদ্যমুক্ত বিশুদ্ধ বাংলাদেশে
সীমানার দুই  পাশে এমনকি প্রত্যন্ত  প্রবাসে অসীম সাহসে
এখনও  শাসন করো অগ্নিবীণা-ছোঁয়া  রাজ্যপাট ।

   সাম্যবাদ-সর্বহারার ভাঙার  গান ;
রুদ্রবীণার ঝংকারময় কবিতা-প্রলয় শিখা ! তাতে ফের পাখার বাতাস,
এই যে বিপদ বাতায়ন
কোমলে-মধুরে-শিল্পে
বরফ গলার  জাদুমন্ত্রে, স্নিগ্ধ  স্বরলিপি হয়ে
দোলালে দোলন চাঁপা, ছায়ানট, পূবের হাওয়া।

ঝিঙে ফুলের শৈশবে,
রুটি-ডলা  লিচুতলা লেটো-ভোলা  মাভৈ মাভৈ সব  হৃদয়বৃত্তির চিত্তনামা,
শিউলিমালা  বা মধুমালা-গীতা শতদল-সঞ্চয়িতা, সুসংহিতা
জীবনে না মেলা অংকে  অংকিত মরু-ভাস্কর,
                        রাজবন্দীর  জবানবন্দী
এবার তোমাকে বলি কবি নজরুল,
দারিদ্র্য ও  মৃত্যু ক্ষিদে  চিনতে বলেছো,
                      আমরা  চিনেছি,
        স্বাধীনতার  লাগাম ধরে রাখা
          ভগবানকে  তাড়াতে  বলেছো,
আমরাতো   হারাতে  পেরেছি সেই  সব  দানব অন্ধকারকে ।

আমাদের করতলে মুক্তিযুদ্ধের বিষের বাঁশি,  বিজয়  পতাকা
আমাদের মুক্ত চোখে রুদ্র  মঙ্গলের স্বপ্ন,
গুলবাগিচার  শতদল ছুঁতে  চাই  কিন্তু
রিক্তের  বেদন, কুহেলিকা, চক্রবাক, দুর্দিনের যাত্রী
  তারাও  মননে বাঁধনহারা, বারবার  ফিরে ফিরে আসে।

সন্ধ্যা’র  জিঞ্জির, চোরের  চাতক দেখো  নতুন  সংস্করণে
            ধুমকেতু  হয়ে আসে আর পাঠ করে
দারিদ্র্রের শাশ্বত কবিতা । সৈনিকত্বে বিবমিষা, মান্ধাতার বিষ-তৃষা।
                  আমরা  জিতেও হেরে  যাচ্ছি নজরুল, নজরুল,                                                                                                                                                                                                                     
 কি  অক্ষয় সেতুবন্ধ  সুরক্ষায়  
কি   সমৃদ্ধি নদী-গ্রাম ভূ-রক্ষায়...
পুড়িব  একাকী বলে কাঁদলে অথচ দেখো
                            একযোগে পুড়ছি সবাই ।

মুক্ত বাংলায়  এসে-তো দেখলে অবমুক্ত  হলোনা  কণ্ঠের  ব্যাধি,
আজ  শুধু, তুমি  আর  তোমার  অর্জন  পর্যন্তই  আছি
দারিদ্র্য-মহান  স্বর্গে  আদি এবং অনাদি...