Print

শেষ ভরসার চৌকিদার

এমপি কোঠে? ঢাকা।
এমপি কোথায়? ঢাকা।
মেয়র অফিস ফাঁকা!
চেয়ারম্যানের পল্লী  অফিস
অলস বাড়ি, খাঁ খাঁ,
মেম্বার আর কমিশনার
ধূলায় উড়ায় চাকা
গুন্ডা তাড়ায় হুন্ডা দিয়া,
রাস্তা আঁকা বাঁকা...
ভোটের নেতার হয় না দেখা,
হয়না অফিস থাকা...

কারণটা কি কারণ ?
অফিস থাকা বারণ ?

নেতা বলেন অন্য কথা
অন্য রকম বুলি
জনগণে বিগড়ে আছে
ভাইঙবে মাথার খুলি...
আহা ভাঙ্বে মাথার খুলি!

কারণ হলো চাই চাই,
নেতাও বলে নাই নাই...
কি চান বাহে কন্তো ?
ফুঁসছে জনগণতো

জনগণের সঙ্গে ছিলো
প্রতিশ্রুতির বহর
গাঁ-গেরামে বইয়ে দিবে
উন্নয়নের নহর...

উৎপাদনে এগিয়ে যাওয়া,
ধানের পাবে দাম,
বাজার মরা, ব্যর্থ নেতা’য়
কুড়াচ্ছে বদনাম !

কইছে নেতা-ভয় নাই,
বউ-এর শাড়ি হয় নাই
ধান বেচিয়া পাট বেচিয়া
কৃষি কাজের জয় নাই ।

বেটিক নাকি বিয়াও দিবেন,
প্রবাসীদের বিপদ ভারী,
স্বামী  বিদেশ, স্ত্রী বাড়ি,
ঐ বাড়িতে কত্তো মধু
নজর কাড়ে প্রবাস বধু 
পরকীয়ায় মন মাতানো
ডলার-দিনার সব হাতানো
পাড়ার যুবক খাড়ার উপর
সব লুটিয়ে হাওয়া,
ভুল করিয়া ফল ছিড়িয়া
কান্দে বেটি ছাওয়া,
আহা, কান্দে বিবি হাওয়া,

হায়রে, কান্দে বেটি ছাওয়া
আহা, কান্দে বিবি হাওয়া।

কত্তো পুরুষ বউ-এর পাগল
কিনতে গিয়া হাটের ছাগল
আনলো নতুন বউ-এর শরীর
রূপটা  নাকি হুর ও পরীর
নতুন বিয়ায় নাইতো শরম
পয়লা বিবির মেজাজ গরম
তাই উপহার নতুন শাড়ি
সেইটা  নিয়াও কাড়াকাড়ি

দুই সতীনে ঝগড়া রাত ও ভোর
দুই জনে কয় ভাতার নোহায় তোর...
দুইজনে কয়-স্বামীতো নয় তোর,
এক স্বামীতেই দুজন খাটায় জোর,
দুই সতীনে খুড়ছে যেন পরস্পরের গোর,
আহা খুড়ছে কবর-গোর...
বাড়ি-টাড়ী মাতম ভরা ঝগড়া-বিবাদ-শোর
বলে, ভাতার নোহায় তোর,
বলে, স্বামীতো নয় তোর...
মুইতো আসল তুইতো নকল
আমি আসল  তুমি নকল
বিষভরা অন্তর, তোর বিষভরা অন্তর...
উড়ি আসি জুড়ি বসি সাজিলো মন-চোর...

হায়রে স্বামী, কলা গাছের থোড়
নাই যে গলায় শাসন করার জোর
দুই সতীনে টানে,
কে কারে আর মানে,
গীবৎ ছাড়া পরস্পরে
কী আর দিবে কানে ?
সুখ হয়েছে হাওয়া
দুইটা  গরম তাওয়া...
নারী-পুরুষ গলে,
দেয় বাড়িয়ে সঞ্চয়ীরা
কষ্ট-পুঁজির থলে !
মাল বাগাতে, মাল ভাগাতে,
করছে মানুষ ভাওয়া,
রাত্রি বেলায় বাত্তি গেলে
যায়না খুঁজে পাওয়া...
কাঁদছে এবার বেটা-বেটি
নাতি-পুতি-ছাওয়্ া।


রাস্তা-ঘাটের করুণ দশা,
যায়না সিটে, বাসে বসা।
ট্রেন আসেনা সময় মতো,
হাসপাতালও না উন্নত
লক্ষ রোগী প্রাণ-দোলনে
শিক্ষকেরা আন্দোলনে
করুণ দশায় বিজ্ঞানাগার
লাইব্রেরি মাঠ বিশাল ভাগাড়,
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে
হয়নি প্রয়োগ জনগণে...
নেতার ঘরেই ভূত,
চার কন্যা-পুত,
কোন সাহসে মাঠ-অফিসার
বলবে নিতে দু’টি,
বাজেটতো নেই প্রচারণায়
আজ আমাদের ছুটি,
গ্রামজীবনে অধিক শিশুর
তাইতো লুটোপুটি...

ধন্য পাগল জুটি!

 কোনঠে আছে  আইন ?
আহা, কোথায় আছে আইন...
সবখানে চাই লাইন।
সবার হলো রোগ
খুঁজছে যোগাযোগ
সকল কাজে নেতা
ক্রেতা ও বিক্রেতা
তাদের দ্বারাই বিচার সালিশ,

হোক না হারা জেতা।

            সমস্যা সব পাহাড় সমান
বিচিত্র তার রূপ,
আলোর খোঁজে কাঁদছে গ্রামে
অন্ধকারের কূপ ।
দাবির পাহাড় মাথার ওপর

জামাই’ক্  টিভি নিয়াও দিবেন
আহা, মেয়েকে নাকি বিয়েও দেবেন,
বরকে টিভি নিয়েও দেবেন
নাই দেশে বিদ্যুৎ,
বিষয়টা অদ্ভূত
অন্ধকারে নিজ স্বামীকেই
বউ বলিছে ভূত...
কি কয় বাহে কি ?
কি ঘটনা ছিঃ
কার গোলাতে  কায় ঢুকেছে,
কার প্রতি যে কায় ঝুঁকেছে
অন্ধকারে টানাটানি...
পাড়া-পড়শীর কানাকানি
ফ্যান চলে না বন্ধ দাওয়া,
যায় খেতে কেউ নদীর হাওয়া,
গোপন হাওয়ায় ছাত্রী এবং টিচার...
তওবা তওবা কে করে কার বিচার !

কায় যে ডাকাইত্ কায় যে চোরা
কার কোমরে গোপন ছোরা,
অন্ধকারে যায় না বোঝা
জুতার ভিতর নাই কি মোজা ?

ল্যাম্পপোস্টের বাত্তি খেলা,
বাত্তি ছাড়াই পাত্তি খেলা,
লেখাপড়ায় বিশাল ফাঁকি,   
আঁধার জগত মাখামাখি
বিরূপ নেশা, খারাপ পেশা
গাঞ্জা-চরস মেলা-মেশা,
লোড-শেডিং-এ কারখানা সব
লে-অফ যেন, হুমকিতে জব...
কাঁদছে কৃষক, কাঁদছে সেচের পাম্প,
রাত পোহালেই বাজার-দরে
অচেনা হাই-জ্যাম্প ।

বাড়লে বাজার, কমে না
বাঘের মেজাজ দমে না,
সুফল বিফল সেচ,
কেমনে দেখাই ফেস...
জমি আবার দখল নিয়া
কত্তো  ধকল, কেস।
বউ-বিবাদী সংসারে হায়
কাঁদছে বেটা ছাওয়া,
এবার কাঁদছে বেটা ছাওয়া,

আহা কাঁদছে পুরুষ ছেলে,
আহা কাঁদছে ঘরের জেলে।

বিয়া নিয়া কান্ড-কাহন ঢের,
বিচার সালিশ, কত্তো রকম জের
দেখার সময় ‘কইনা’ দেখায় এক
বিয়ার সময় বরেরা পায় ছ্যাঁক,
নাক তন তন, রূপ-চুলে নাই খুৎ,
বিয়ার সময় যেই গেলো বিদ্যুৎ,
বধু নাকি বদল হলো হায়
ঘোমটা মে’কাপ, আসল বোঝা দায়...
দুদিন বাদে বাসর ঘরের পরে
বরের বাড়ি বিবাদ-মাতম করে,
মেয়ের বাড়ি ফেইল্লো নাকি ফাঁন্দে
নানান খোঁটায় নতুন বধু কাঁন্দে
হায়রে কথা বর্বর
বিয়ায় এতো গড়বড় !
নকল সাজি আইলু
রাজার কুমার পাইলু
আহা, নকল সেজে এলে,
আহা, রাজার কুমার পেলে
কেমন তোমার  কৌতুক
কি আনিছো যৌতুক ?

হায়রে কথার খোঁটা
বধুর চোখে ফোঁটা,
বন্ধ নাওয়া খাওয়া
কান্দে বেটি ছাওয়া ,
আহা, কান্দে বেটি ছাওয়া...
আহা, হায়রে বিবি হাওয়া।
বিদেশ যাবার আশায়
কত্তো টাকা ভাসায়,
নানান দালাল অসৎ
গ্রামেই করে বসত,
বিয়া বসায় আগে,
জমলে  টাকা, ভাগে।
আর কাবুলী’অলা
ফুটো করে তলা,
করবে পুঁজি ডবল
স্বপ্ন-জীবন সবল,

নানান কথার ছলে
লোক-মনে উত্তাপ
পল্লী গ্রামের সরল মানুষ 
কী করেছে পাপ,
শহর কেনো সবটা রাখে,
বিশাল বাজেট তারই,
অর্থ তোমার ব্যর্থ খোঁজে
নেতারা দেন পাড়ি...
নিজ এলাকায় ভোট-জনগণ
দাবির মিছিল নামায়,
বিজলী বাতি, হরেক বিষয়...
নেতার জীবন ঘামায়।


বৃষ্টি ভূমিকম্প
মোমবাতি বা নম্প,
কারেন্ট-বাতি নাই
খানিক এসেই লম্বা বিদায়
গুডবাই গুডবাই...


এমপি কোঠে ? ঢাকা ।
মেয়র অফিস ফাঁকা।
চেরাম্যানের পল্লী অফিস
অলস বাড়ি খাঁ খাঁ ।
মেম্বার আর কমিশনার
ধূলায় উড়ায় চাকা
চৌকিদারই শেষ ভরসা
হায়রে চাচা, কাকা !
ক্ষমতাহীন পাহারাদার
তবুও সচল থাকা...


এমপি কোঠে ? ঢাকা ।
মেয়র অফিস ফাঁকা।