Print

তোমার এ্যাশট্রে হবো

গ্রানাইড পাথর বা বেলজিয়াম গ্লাস
অথবা হীরের দ্যৃতিময় তোমার এ্যাশট্রে,
তোমাদের ছাইদানি
তোমরা ফুলদানির সঙ্গে অদল বদল করো,
পরিবেশ বিদের সঙ্গেও সমঝোতা হতে পারে।

তবে আমি মানবাধিকারের কসম খেয়ে বলছি
আমাকেই এ্যাশট্রে বানাও,
টগবগে হাতের মুঠোয় পাঁচ খুঁটির তালুতে
থকথকে আগুনের ছাই,
ধুমপানের মার্জিত মল-মূত্র
কোমল ডালিতে ফ্যালো,
এমন জীবন্ত ছাইদানি হয়তো
সদ্য দগ্ধ তাপানলে কাপতে থাকবে,
আগুন আঁচের ছোঁয়া চোখে মুখে
জাগাতেও পারে ভূমিকম্প
তুমি তাতে মানবিক না হয়ে বরং
স্মরণ করতে থাকো মরুভূমির খেলার মাঠ,
শিশুরা উটের জকি, কাঁদছে কাৎরাচ্ছে
আর তাদের আর্তনাদের আহাজারিকে
আবহসঙ্গীত ভেবে প্রতিযোগী উট
পদিয়ে উড়ছে ....
আবার উটের উল্লম্ফনে উল্লাসে উচ্ছাসে উদ্ভট উন্নাসে
উগ্রতায় মনিবেরা, মালিকেরা গড়ছে বালিঘরে বিনোদন।
 
সেভাবেই এ্যাশট্রে-মালিক আমার নরম তালু কিনে নাও ।
চুরুট অথবা সিগারেট পুড়ে যেভাবে প্রশান্তি পাও
সেভাবে পোড়াও ত্বক আমাদের, দারিদ্রের।
মঙ্গা-খরার মানুষ, শিশু কিংবা মেয়ে মানুষ হয়তো পাথর
হাতের তালুকে দেখো খোদাই করেছি শ্রমের আগুনে,
এখন এ্যাশট্রে হবো তপ্ত ছাই নেবো,
তবু কাঁদবো না, কারণ পেটের আগুন নেভানোর কাজে
ঝলসালো হাতের আহার তুলে দেবে দগ্ধতার অধিক আরাম।