Print

তমলুকে রোদাক্ত কবিতাসভা

চলি¬শ ডিগ্রীতে রোদ আর উষ্ণতার উদ্দামতা,
সুচরিত ভবনের দেওয়াল, টিনের ছাদে, মঞ্চে
তুমুল তাতানো আহাজারি,
বিদ্যুৎ  ব্যর্থ তার পাখা নিয়ে, হাতপাখা অসহায়,
তবুও কবিতা থেমে নেই, যেন ক্লান্তিহীন ঝর্ণাধারা

সকৌতুক শিল্পী দিয়ে শান্তির কপোত এঁকে
শুভা প্রসন্নের তুলি হাসলো, বললো
এই নিন সাদা শীতাতপ,
অথচ পালালো শিল্পী, কবিতার প্রাণঘ্রাণ না শুঁকেই

ঘামাচি আসক্ত কিছু কবি, তারাও পালালো।
সভাধিপতির ঠাটেঁ পবিত্র মুখার্জী বললেন
আমপাকা দুর্ধর্ষ গরমে এবার কবিতা পাকছে।

বাংলাদেশের আধাডজন কবির দলপতি
আসাদ চৌধুরী স্মৃতির লাটাই খূলে মুক্তিয্দ্ধু
ভাষা আন্দোলন, ভূখন্ড জয়ের ঘুড়ি ওড়ালেন,
অথচ গরম থেকে মুক্তির
প্রসন্ন সমধান মিললো না!

আমি বললাম, আগামীতে বিজ্ঞানকে ধরে
ঢাকা থেকে শীতলপাটির মেঘপুঞ্জ আনা যেতে পারে,
তবু থামলো না উষ্ণতার উগ্রতার দাবানল।

থামবে কি করে?
তমলুকে শ্যামলকান্তির হাত ধরে এতো বড়ো
কবিতার ভোজসভা,  
জীবনানন্দ নামের মঞ্চে সৃষ্টি রাজ্যের মহারাজারা,
শংকরী-চৈতালী-শিখা-লায়লা-মুকৃতি-সুনীতির রাণী,
শতাব্দী প্রাচীন স্রোত থেকে উঠে আসা জলসার ঢেউ
আবার জাগালো মাটি, সূর্যকে জানান দিলো-

এখানে নোঙর করো, পুজো পাবে
হারানো বন্দর খুঁজে নাও, কৃষ্টিকেও পাবে,
এখানে সুকণ্ঠ আছে, আশিস-সঞ্চিতা-নিপু মায়
প্রদীপ্ত-অর্থিতা-দেবব্রত কতো কর্মিষ্ঠ পূজারী ...

তুমি এসেছিলে আঠা-রোদ  উষ্ণতার বেশে
তোমাকেও ধারণ করেছে তৃণমূল কবিকূল অবশেষে।

মহানন্দে কবিতা পাড়ায় এলে সূর্যদেব
চরণে চরণে বুঝি মরণের বাণী খুজঁছিলে,
হয়তো ভাবছিলে-বন্দনা এমন চলুক যে-

হে প্রকৃতি রাজ, সূর্যদেববর দাওতো চমক,
তমলুকে আবার সমুদ্র তটরেখা এনে দাও,
জেলা সদরের সামান্য মুখের সুখে এনে দাও
স্মৃতিময় রাজ্যপাট,
কবিরা আবার রাজকবি হবে,
স্বর্ণমোহরে আবার বশীভূত হবে বিনীত পয়ার!
পুঁথিময় পদ্যে বিভোর রমণীময় রাজ্যযুগ আবার আসুক!

আসেনি সে দিন।
কবিরা আনেনি আর যুক্তিহীন বন্দনা অপার।
বলেনি-হে সূর্য এতো যে জ্বলছো
আরেকটু রক্তিমতা চাই, আরেকটু হাওয়া দাও
    তাপের বেলুনে
তারপর আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত চমক,
কয়লা প্রধান এই দেশে হঠাৎ পরিবর্তন
খুব বেশি অস্বাভাবিক হবে না,
আমরা আবার ফিরে পাবো বিপন্ন অতীত,
আবার কৃষক-রাজা, নৌকা ঘোড়া-পয়ার প্রাচীন
স্বর্পমুদ্রার সভ্যতা !

কবিরা চায়নি সেই উল্টো যাত্রা পালার বিবেক হতে।
প্রকৃতিকে বলেনি যে রাতারাতি গ্রীষ্মকে শরতে নাও,
সূর্যকে বলেনি মধ্যমাঠ থেকে বিশ্রামের বিছানায় যেতে,
গরমের তিক্ততায় তেতেছে, তবুও চলে গেছে
শীতবায়ু বরফের পর্বতের পথ কেটে কেটে...

যদিও শুনেছে গান আবহমান আব্বাস কণ্ঠে
আল¬াহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে
তবুও কবিরা খসখসে গ্রীষ্মকৃষ্য পাতায় পাতায়
শুধুই লিখেছে আকুলতা ঃ কবিতা দে,
হে মালিক কবিতা দে, প্রভু কবিতা দে...
ওরে আগুন দেবতা কবিতা দে, কবিতা দে, কবিতা দে...

কবিতা তাপানুকুল নয়, তৃণমূল নয়
শুধুমাত্র ভিত্তিমূল, তবে প্রগতির বরাভয়।
প্রকৃতির অভিশাপে তমলুকে, হলদিয়া, কলকাতা, আসানসোল, চুরুলিয়ায়,
অথবা রংপুর টাঙ্গাইল রাজশাহী চাটগাঁ ঢাকায় খুলনায়  
নিউইয়র্ক বস্টন-কানাডায়, জাপান-বৃটেন-ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য,
মায় চাঁদবাড়ি, নক্ষত্র পাড়ায়।
কবিতা এগোয় রৌদ্রে, বরষায়
অগ্রবর্তী মানুষের বিপ¬বে  ও ভরসায়।
ওম শান্তি ওম বৃষ্টি, ওম রৌদ্র, ওম লু হাওয়ায়
কবিতাই সব্যসাচী, অদম্য অধ্যায়।