টাচ্ ফোনে যা আঁচ করেছি
সবার হাতেই টাচ্ টেলিফোন, আমার হাতে কই,
আমার কেবল খেলনা পুতুল ব্যাগ ভরা রুল বই।
সবাই বলে, হ্যাল্লো বেবি ইশ্কুলে যাও, ভালো
মানুষ হবে, জীবন গড়ে ছড়িয়ে দেবে আলো।
আমি বলি টাচ্ টেলিফোন, ওরা বলে অন্য
কেবল বলে বড়ো হয়ে জীবন করো ধন্য।
ছোট্ট মানুষ, ছোট্ট দাবি কে আর বলো শোনে,
চুপিসারেই হাত বাড়ালাম মামার টেলিফোনে...
কি বলো হায় নাই ফোনে
আই-প্যাডে আর আই-ফোনে
ভিডিও কল, ক্যামেরাও
সাহেব বিবি ম্যামেরাও
মুখে হাসি কানে ফোন
স্কাইপের আয়োজন,
ক্যালকুলেটর, ইন্টারনেট
ক্যালেন্ডারে ডায়রী-ডেট
এলার্ম ঘড়ি, অপশনে
মেসেজ রেকর্ড সব শোনে,
জিপিএস-এ ঘুরছো না?
হায়রে গানের মূর্চ্ছনা
হাজার ছবির গ্যালারী
কত্তো বিষয় খেলারই...
এক পৃথিবী হাতের মুঠোয়, হাতেই নিলাম ফোন,
জানি না তো ক্যাম্নে চালায়, কত্তো যে অপ্শন!
কী প্যাড কোথায় খুঁজতে গিয়ে আলগা হলো হাত,
মুঠো থেকেই মুঠো ফোনের পতন অকস্মাৎ...
ধপাস করে উঠলো কেঁদে ভেঙ্গে সে ছারখার,
হায়রে দামী আয়রনই ফোন, দশ ভাগে আরমার।
হায়রে সাধের টাচ্ ফোন
ভাঙলে যেন কাঁচ ফোন,
চতুর্দিকে মামা-বাবার
হা-পিত্যেস, ঝাঁঝ টোন
উঠলো মামা, ছুটলো বাবা, আম্মু বলেন, থাক
ছোট্ট বেবি, তার ওপরে আর ঢেলো না রাগ।
হয়নি বয়েস ওটা ধরার, কব্জিতে নেই জোর,
টাচ্ ফোনে চাই অভিজ্ঞতা, জোটেনি যা ওর।
আমরা বরং বোঝাই ওকে- সমস্যাটা কী,
এবার আমি নিজেই বলি- ঠিকই বুঝেছি।
টাচ্ দেওয়াটা সহজ তবে আঁচ করিনি ‘টুল’
ছোট্টো হয়ে বড়োর জিনিষ ধরতে যাওয়াই ভুল।
যা খুশি চাই- মহা অন্যায়, আর না অপরাধ,
এখন শুধু বুদ্ধি-জ্ঞানে মানুষ হওয়ার সাধ।