ঊর্মিমালা বসুর সঙ্গে
ঊর্মিমালা বসু যেন সমুদ্রঢেউ রূপ অপরূপ
গান-কবিতা-বাচিক! কলা’র ধী-মগ্ন এক বঙ্গ নারী,
গিয়েছিলাম সঙ্গী হয়ে জল-বাঁধনের ফরাক্কাতে,
চুল যেভাবে অভ্র বেণী, খোঁপায় যেমন ঢেউ বিনুনী,
ভাগিরথী গঙ্গা হয়ে, নদী যেন মাতঙ্গিনী
উতলা জল বাঁধতে সে কি বেণী খোঁপার বাঁধ আয়োজন,
ঊর্মিমালা বসু; আমি দেখেছি হায় ঢেউ-এর পতন!
দেখালো এক প্রকৌশলী, বাঁধের ওপর জীপ থামিয়ে
দক্ষিণে কি জল সরোবর, পাঁচ খাড়া জল আনু-মানিক,
উত্তরে হায় দেড় খাড়া নেই, স্রোত নেমে যায় খানিক খানিক,
ফরাক্কাতে হঠাৎ নদী, হঠাৎ মাথা, হঠাৎ খোঁপা
জলবিনুনির রাজনীতি আর, আবন্টনের অন্ধ হিসেব,
জলকে বেঁধে সেচ সুবিধে, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল,
প্রকৌশলী ক্রোধ ছড়ালেন বাঁধের দু’পাশ সচল অচল।
প্রশ্ন তোলেন পরিবেশের, জলবিহনে ফসলহানি
অচল দিকের আহাজারি, মৎস-কৃষির অসম্মানী,
বৃক্ষ-লতায় মৃত্যু-মড়ক, প্রকৌশলীর অভিজ্ঞতা
এদিক দেখেই ওদিক বুঝি পূব-বাঙালির কষ্টকথা...
আমরা অবাক কবি-লেখক, আমন্ত্রিত অতিথি দল
জলের এমন অংক দেখে সবার দু’চোখ অশ্রুসজল।
কাব্যময়ী কৃষ্ণা বসু, তমালিকা চিত্রা দীপক,
পঙ্কজ বা সতীনাথের দেখভালে বুঁদ সুনীল করণ,
জগন্নাথ ও ঊর্মিমালার শ্রুতি নাটক প্রাণ-হরণের
আমরা সবাই বঙ্গ তবে, আমি ছিলাম দুঃখী দেশের
জল না পাওয়া তেষ্টা কবি, বাংলাদেশের প্রতিনিধি।
রবীন্দ্রনাথ ভবন হয়ে ছিলেন যথা আবরকে,
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাবৎ বেঁধেছিলো সাহিত্যকে।
জল ছিলো না বিষয়, শুধু গান কবিতা শ্রুতিনাটক
ঊর্মিমালা বসুর সঙ্গে অবশেষে জলেই আটক
ঢেউ দেখেছি তারুণ্য ঢেউ, ঘি বরণের বাকল দেহ
রূপ সাগরের স্মৃতির জাহাজ, শাড়ি-চুড়ি গোছানো সাজ,
ভেবেছিলাম গঙ্গাতে ঠিক জল দেখাবে ঊর্মিমালা,
ফরাক্কাতে দেখে এলাম জল-মোকামে বৃহৎ তালা!