Print

তিনবাংলা’র লেখক-সম্মেলন

 

তিনবাংলা লেখক সংহতি’র বাংলাদেশ সম্মেলনে বাঁ থেকে ভারতীয় লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ হাসমত জালাল, অনুষ্ঠান সংগঠক কবি-কণ্ঠশিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, অনুষ্ঠান সভাপতি তিনবাংলা’র গ্লোবাল সভাপতি কবি-কথাকার সালেম সুলেরী, সম্মেলন উদ্বোধক বিশ্বখ্যাত লেখিকা ও তিনবাংলার ভারত চ্যাপ্টার-এর সভাপতি অধ্যাপিকা নবনীতা দেব সেন, সহ-উদ্বোধক সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী ও বিশেষ অতিথিভাষাবিজ্ঞানী ড. বেগম জাহানারা। ছবি: নিউজব্যাংক


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥ ভারতের পদ্মশ্রী খেতাবপ্রাপ্ত কবি অধ্যাপিকা নবনীতা দেব সেন বলেছেন, লেখক-কবিদের কোন দেশ কিংবা কোন বর্ডার নেই। তারা সবাই বিশ্ব নাগরিক। যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে, আমরা সবাই একই গোত্রভূক্ত। শুধু বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গই নয়, আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে বাংলার সন্তানেরা। তিনবাংলা এদের সবার মধ্যে গ্রন্থি বাঁধার চেষ্টা করছে।
শনিবার বাংলাদেশ-ভারত ও বিশ্ববাংলার সেতুবন্ধ সাহিত্য সংগঠন তিনবাংলা লেখক সংহতি’র লেখক-সম্মেলন উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


তিনবাংলা লেখক সম্মেলনে সমবেত কবি-লেখক-শিল্পীদের একাংশ: বাঁ থেকে উপবিষ্ট রফিকুল হক, সৈয়দ হাসমত জালাল, বুলবুল মহলানবীশ, গ্লোবাল সভাপতি সালেম সুলেরী, অমৃত মাইতি, আল মুজাহিদী, ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ, সরকার মাহবুব, সৌমিত্র মুৎসুদ্দি  (ছবি - ইফতেখার হোসেইন)

 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত সম্মিলনে ভারত, গ্রেট বৃটেন, আমেরিকার বাঙালি লেখকরাও অংশ নেন। বিশ্বখ্যাত লেখিকা ও তিনবাংলার ভারত চ্যাপ্টার-এর সভাপতি অধ্যাপিকা নবনীতা দেব সেন লেখক-সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সহ-উদ্বোধক ছিলেন সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী । সভাপতিত্ব করেন তিনবাংলার গ্লোবাল সভাপতি কবি-কথাকার সালেম সুলেরী।
সম্মানিত অতিথি ছিলেন- ভাষাবিজ্ঞানী ড. বেগম জাহানারা, পরিকল্পনা সচিব ও লেখক ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, বৃটেনে বসবাসরত কবি শামীম আজাদ, ভারতের-লেখক-রাজনীতিক-অমৃত-মাইতিও-লেখক-সাংবাদিক-সৈয়দ-হাসমত-জালাল।
তিনবাংলা লেখক সম্মেলনে সমবেত কবি-লেখক-দর্শকদের একাংশ  (ছবি - শাহালা আঁখি)

 

জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণকারী লেখকবৃন্দকে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী, বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত কয়েকজন লেখক যথা- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ছড়ালেখক-সাংবাদিক রফিকুল হক (দাদুভাই), জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আসলাম সানী প্রমুখকে সম্ভাষিত করা হয়। সম্ভাষিতরা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শুধু তিনবাংলা নয়, আজ এখানে বহুমাত্রিক বাংলাকে খুঁজে পাওয়া গেল।


জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণকারী বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত লেখকদের ‘শুভেচ্ছা-সম্মাননা’ পর্বে সম্ভাষিত হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও পদ্যলেখক রফিকুল হক। শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভারতের কবি সৈয়দ হাসমত জালাল, পাশে কবি-কথাকার সালেম সুলেরী, মুক্তিযোদ্ধা-গবেষক ফিরোজ আহমদ এবং কথাসাহিত্যিক ও সরকারের যুগ্মসচিব আফরোজা পারভীন

(ছবি - ইফতেখার হোসেইন)

 

লেখক-সম্মেলনের সহ-উদ্বোধক সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী বলেন, বাংলা ভাষাভাষী আমরা যে যেখানেই থাকি না কেনো, আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাঙালি। এদের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে তিনবাংলা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এজন্যে তিনি সংগঠনের গ্লোবাল সভাপতি কবি-কথাকার সালেম সুলেরীকে সাধুবাদ জানান।
বাঙালিদের প্রযুক্তি শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক বিষয়ে এমপি কাজী রোজী বলেন, ভালো লাগছে, তারাও তিনবাংলা আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জেনেছি, তারা আমেরিকায় তিন হাজার বাঙালিকে মূলধারার চাকরিতে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে। কানাডা ছাড়াও ক্যাম্পাস খুলেছে ভারত ও বাংলাদেশে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। অনুরোধ করি, আমাদের কবি-লেখকদের মৌলিক সৃষ্টিকর্মগুলোকে আইটিতে সংযুক্ত করা হোক। কবি-লেখকদেরও সাশ্রয়ী সুবিধে দিয়ে প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হোক।
তিনবাংলা লেখক সম্মেলনে উত্তরীয় পরিধান পর্বে নেতৃত্ব দেন বৃটেন থেকে আগত কবি শামীম আজাদ। পাশে ভারতের কবি সৈয়দ হাসমত জালাল, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী, বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত পদ্যকার রফিকুল হক, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও সম্মেলন সংগঠক কবি বুলবুল মহলানবীশ, সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী, পরিকল্পনা সচিব কবি ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, বায়ে মুক্তিযোদ্ধা-গবেষক ফিরোজ আহমদ ও কবি রোকন জহুর  (ছবি - ইফতেখার হোসেইন)

 

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সচিব-ব্যক্তিত্ব লেখক ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, ভাষাবিজ্ঞানী ড. বেগম জাহানারা, কবি অমৃত মাইতি, লেখক সৈয়দ হাসমত জালাল, কবি শামীম আজাদ প্রমুখ সেতুবন্ধ সম্মেলনটিকে প্রসারিত করার পক্ষে মত দেন। তিনবাংলার সংহতি উদ্যোগের মাধ্যমে সাহিত্য-সম্পদ পারাপারে বা আদান-প্রদানে নতুন গতি আসবে বলে মন্তব্য করেন।
তিনবাংলার সাহিত্য আন্দোলনে তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হয়। এই উদ্যোগের সাথে সংহতি প্রকাশসহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির বিভাগীয় প্রধান  ও পিপলএনটেকের উপদেষ্টা প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন । লেখক-সম্মেলনটি সমন্বয় করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী কবি বুলবুল মহলানবীশ।
উদ্বোধনী পর্বে ছিলো মঙ্গলসঙ্গীত ও গত এক বছরে মৃত্যুবরণকারী লেখক-বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শোক-শ্রদ্ধা নিবেদন। ‘যে আমি চলে যাবো’ শিরোনামে সালেম সুলেরীর কবিতা দিয়ে জানানো হয় শোক-সম্মাননা।
সদ্যপ্রয়াত সংগঠক, লেখক, সঙ্গীত শিক্ষক খোদাবক্স সানু স্মরণে বিশেষ আলোচনাও সংযোজিত ছিলো।

তিনবাংলা লেখক সম্মেলনে প্রযুক্তির মাধ্যমে সাহিত্য বিপণন বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন ‘বইপোঁকা’র সিইও মনজুর মাহমুদ, পাশে ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির বিভাগীয় প্রধান  ও পিপলএনটেকের উপদেষ্টা প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া সর্বলেখক সৌমিত্র মুৎসুদ্দি, পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, ভাষাবিজ্ঞানী ড. বেগম জাহানারা, ভারতের অমৃত মইতি, গ্লোবাল সভাপতি সালেম সুলেরী, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও সম্মেলন সংগঠক বুলবুল মহলানবীশ  (ছবি - মাহাবুর রহমান)

 

তিনবাংলা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘উত্তরীয় পরিধান পর্বে’ বাংলাদেশের পক্ষে কবি কাজী রোজী এমপি, ভারতের পক্ষে লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ হাসমত জালাল ও বিশ্ববাংলার পক্ষে প্রবাসী কবি শামীম আজাদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সেতুবন্ধে প্রাণবন্ত এই পর্বটি সমন্বয় করেন কবি বুলবুল মহলানবীশ, কবি রবীন্দ্র গোপ, সাংবাদিক বিনয় রায়, কবি রোকন জহুর প্রমুখ।
বিশ্বসভায় বাংলা সাহিত্যের প্রসার ও বিপণন বিষয়ে লেখক-সম্মেলনে নানাজন আলোকপাত করেন। উল্লেখ্য, সম্মেলনে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলএনটেক অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানের সিইও প্রকৌশলী আবু হানিপ আমেরিকার ভার্জিনিয়া থেকে সম্মেলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববাতায়নের লেখক সালেম সুলেরী বলেন, বাংলা সাহিত্য ব্যাপকভাবে অনুবাদিত হচ্ছে না। তিনবাংলা লেখক সংহতি অনুবাদকর্মের উত্তরণ, বিশ্বমান অনুসরণ ও কবি-লেখকদের ভ্রমণ বিষয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী। কবি-কণ্ঠশিল্পী বুলবুল মহলানবীশের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সমবেত সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিস্থিতি সাপেক্ষে ফেব্রুয়ারির ২০-২১-২২ তারিখে ঢাকায় তিনবাংলা বিশ্বসম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়। আগ্রহী লেখক-সংস্কৃতিসেবী ও পৃষ্ঠপোষকদের অবিলম্বে  tinbangla.info@gmail.comThis email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. অথবা newsbank.info@gmail.comThis email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. ই-মেইলে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনবাংলা লেখক সম্মেলনের সমাপনীতে গীত মুক্তিযুদ্ধের গান- ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল...’। গানটির সদ্যপ্রয়াত গীতিকার গোবিন্দ হালদারকে স্মরণের পর পরিবেশিত সঙ্গীতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও সম্মেলন সংগঠক কবি বুলবুল মহলানবীশ। তিনবাংলার কবি-লেখকদের একাংশও এতে যোগ দেন 
(ছবি - ইফতেখার হোসেইন)

 

আলোচনা, কবিতা পাঠের পাশাপাশি সঙ্গীতও পরিবেশিত হয়। এতে বিশেষ অতিথিদের পাশাপাশি অংশ নেন কথাশিল্পী আফরোজা পারভীন, কবি রবীন্দ্র গোপ, কবি সরকার মাহবুব, মুক্তিযোদ্ধা-সংগঠক ফিরোজ আহমদ, লেখক-মুক্তিযোদ্ধা শেখ লিয়াকত, লেখক-চলচ্চিত্রকার দিলদার হোসেন, কবি নাহার ফরিদ খান, কবি মনসুর আজিজ, কবি জেবুন্নেসা হেলেন, লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু, কবি জামিল জাহাঙ্গীর, কবি সাদিক মোহাম্মদ, লেখক-মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, গবেষক-লেখক ড. আবদুল হাই, মার্কিন প্রবাসী কবি ইউসুফ রেজা, ভারতীয় কবি সু¯œাত জানা, মানস কুমার চিনি, সাকিল আহমেদ, প্রাণনাথ শেঠ, কবি সৌমিত্র মুৎসুদ্দি, কবি অঞ্জন আচার্য, কবি রানা হামিদ, হাসনাইন সাজ্জাদি, আরিফ রহমান, মঞ্জুর মাহমুদ, এজানুর রহমান, আবু সাহেদ, শেখ দূর্জয় জামান, কণ্ঠশিল্পী শাহালা আঁখি, মাহাবুর রহমান, লুতু সরকার প্রমুখ।