বহুগামী ডিম
প্রিয়কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ‘র স্ত্রীকে
ডিমের সমান কুসুম হয়েছো
কিন্তু মানবী হলে না!
কুসুমের চারপাশে যে সাদা শর্করা
পুরোটা হজম করে ভেঙেছো লজ্জার খোসা।
টসবগে দেহ পেলে, উর্বর স্বভূমি
আনকোরা চাঁদের জমিনে পেলে
পুরুষের পাঠ, পূর্ণপ্রাণ স্পর্শের আমোদ।
ডিমের নানান স্বাদ নুন বনাম চিনিতে।
ঋদ্ধ উষ্ণতায় জলকেলী সেদ্ধ, টিন-এইজ হাফবয়েল,
আগুন-কড়াই তেলে শীৎকারে তাজা ডিমপোজ
অথবা হালকা হলে হানিমুন-অবিরাম অমলেট,
বাজেট হালকা তাই কারিতেও ডিমের তেলানী,
সংসার সৌখিন হলে পুডিং মৌতাত, নানান রেসিপি
ফ্রাইড রাইস থেকে নুডল্সের গায়ে লেপ্টে থাকা
তিরতিরে কামুক আস্বাদ
নারীকে জাগায়।
পুরুষকে ডেকে বলে এখনই সময়।
ডিম আর প্রজনন-প্রবণ স্বদেশে
এতো দম খোঁজো, মনের উদ্যম খুঁজলে না।
ব্যবহারবিধিটুকু না জেনেই ফুটেছো পূর্ণপাপ,
সারেরা উর্বরা দেহে যতো পড়ে পরকীয়া চোখ
তা নিয়েই তুমি খুলে বসো বিতরণ মেলা।
ডিমের বিচিত্র স্বাদ নিতে
নানা বয়েসের কড়াই নি®প্রয়োজন,
ডিম্বাশয় অভিমানী হয়,
তুমি কিছুই বোঝো না।
এক দেহে নতমুখে, লীন হয়ে
একটি মনের মাছভাজা অগ্নিপাতিল
তাতে সেদ্ধ, হাফ বয়েল, নগ্নপোজ, অমলেট, কবিতা-পুডিং
অসম্ভব সম্ভব তবুও
মানবিক খোসা ভাঙো দানবিক ডিমের কুসুম
এক দেহ সেদ্ধ হতে দশবার কড়াই বদল।
আস্বাদে আস্বাদে ভাজা রূপ পুড়ে গেলে
ডিমপোড়া নারী পোষে মনেও বিস্বাদ।