সুখের কাছে বুকের চিঠি
লিখতে চিঠি তোর চেহারা মূর্ত দেখি
স্মৃতির শিসে সেই চিঠিতে লেখালেখি।
বর্ণগুলো স্বর্ণ আমার, ঢের তহবিল
পাঠিয়ে দিলাম ব্যথার এ খাম, আকাশ সুনীল।
যে আকাশে মুখ লুকিয়ে মেঘ কেঁদে যায়
তেমনি এ খাম, তোর ঠিকানা অশ্রু গড়ায়।
অশ্রুতো নয় অশ্রুতো নয় বজ্রকণা,
তোকে নিয়েই অভিজ্ঞতা; জানা শোনা।
সুখ-শোণিতে তুই ছিলি এক এলোকেশী
চাওয়ার চেয়ে পাল্লা-পাওয়া অনেক বেশি।
নদীর পাশে; নদীর সুরে কণ্ঠ ছেড়ে
আমার ভেতর সুখের নদী উঠলি বেড়ে।
বাকুম বাকুম বাক বা কুম কত্তো কথা
ডেকেছিলাম শাশ্বত সুখ বনলতা।
রূপ উপমায় মুগ্ধ ময়ুর, বললি এসে
‘কাব্য হবো, তোর কবিতার নিরুদ্দেশে’।
হয়নি লেখা; আমার ভীষণ শব্দ অভাব
পাঠ করেছি তোর-তোমারই শাড়ি-স্বভাব।
সুখ থাকে না যুগ অবধি ঠায় বহমান
জড়িয়ে নিলি অন্য আকাশ সুখ রহমান।
মন থেকে এক মন হারালে আর কি রহে?
‘কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটে’ এই বিরহে
বললি এসে, ক্যান যে এমন সুযোগ ছাড়িস
এই ব্যথাতে কাব্য-কামাই লুটতে পারিস।
লেখার খাতায় ডুকরে কাঁদে কালো কালি
ছন্দ এবং উপমাদের পালাপালি।
শব্দ কোথায়? বুক পাখিটার করুণ সিঁটি,
কাব্য কোথায়? সুখের কাছে বুকের চিঠি।