দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ
দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ
নিঃশ্বাসে আজ বিশ্বাস নেই কোনো,
সমুখে দাঁড়ানো নিয়তির পিরামিড
কতো আর বলিÑ বাঁচাও বাঁচাও, শোনো।
সুখ শুনলো না শান্তি দিলো না পথ
পরিবার আর প্রতিবেশী আজ অন্য গ্রহের জীব,
সততার প্রতি সমাজের নেই সরাসরি অভিমত
নিষিদ্ধ ফলে রাখতে পারিনি কোমল ওষ্ঠ-জিব।
এইটুকু বুঝি দোষ?
অর্থে খুঁজি না জীবন সংজ্ঞা
এ কেমন পরিতোষ!
বালক বেলায় গড়েছি বালুর ঘর
ভেঙেছি তাবৎ ছিঁড়েছি ঘুড়ির সুতো,
চেনা সেলুনেই টাকার আদেশ, গোঁফটাও শেভ র্ক।
বুঝিনি দু’পায়ে কখন পরেছি দোকানের বড়ো জুতো।
শুকতলা জুড়ে ফুঁড়ে ছিলো এক কাঁটা,
গোপন দুঃখ করিনি প্রকাশ
বন্ধ করিনি হাঁটা।
সুখ নামে এক নারী ছিল কোনো কালে
শেখালো আমায় ঠোঁটের সরব ভাষা
দৃষ্টি ফেরালো সবুজ বৃক্ষ ডালে
বোঝালো আমায়, কেনো পাখি বাঁধে বাসা।
শয্যায় গিয়ে লজ্জা হারাতে হয়
শিক্ষক হয়ে পরীক্ষা নিলো আর
যদিও বোঝালো দ্বৈত জীবন ফলবান সুখময়
তবু সেই সুখ-প্রণয়ের পাখি নিলো না আমার ভার।
উল্লেখ করি, প্রণয়ের মালা পরেছি অনেক আগে
শব্দের ফুল ভাষায় সুতোতে সজ্জিত ছিল যার,
সেই মালা দেখে আমার নারীরা পরাজিত হয়, ভাগে
অবশ্য কেউ উজালো দু’ঠোঁট ; বাহ্ কি চমৎকার।
মানুষ গড়ার আঙিনা ছেড়েছি দুখে
সেখানে মিছিল, নোটখাতা গেলো খোয়া...।
জীবন পাঠালো কলম পেশায় মতিঝিল অভিমুখে
কহুরে কৃষক বুনে যাই ছাদে ধানের নতুন রোয়া।
রুটি-মন-ডলা গান নয় কোনে সময়ে সুযোগে ভাবি
বাবার চাদর মা’র শাড়ি আর বোনের আলতা ঠিক
গ্রাম পরিজনে রিলিফের চোখ: শহুরে রোদের দাবি।
কে যেনো হঠাৎ হাতছানি দেয়Ñ জীবনে কে কার দেখ্
শরীর ও মন থমকে দাঁড়ায়, মুখ ফিরে আছে কাজ
দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি সদস্য বেকার এক
ওই বেতনের কেতন আমার উর্ধ্বে উড়ে না আজ।
সুদিন নিয়েছে খোঁড়া পিছুটান, দেয়াল নিয়েছে পিঠ
অভাবে স্বভাব ভাঙতে পারি না, কতো গেলো হার-জিত
সুরের তাগিদে শিল্পী আঙুলে টেপে পিয়ানোর রিড
আমাকেও টিপে নিয়তি বাজায় শোষণের সঙ্গীত!