ব্যথার বাণিজ্য
নদীর পাড়ের মাটি ভাঙে জলের উজানে
বিরহের চাপে ভাঙে বুকের কলস
এইভাবে ভেঙে যায় তৃষ্ণার সংসার
তারপর
খরা বুক জল খোঁজে
শুকনো ঠোঁট খোঁজে চুমুর চাটনি
এবং পিচঢালা চৈত্রের রাস্তায়
হঠাৎ ট্রাফিক স্টপেজের লালবাতি জ্বেলে
প্রেয়সী বাড়িয়ে দেয় বুুড়ো আঙুলের নিশেন।
প্রেমিকের এই একটি আঙুল একদিন ছিলো
চুলের নগরে বিলিকাটা প্রজাপতি,
একটি আঙুল ছিলো আরও চারটিকে ধরে
যেন নেলপলিশের রঙে পাঁচটি মৌমাছি
এসেছে ; বসেছে বুকে লোমশ উঠোনে,
ভুরুর উরুতে তারা গেয়েছিলো ঘুমের কোরাস
নাকের পাহাড় থেকে নেমে যেতো গোঁফের বাগানে,
চারা রোপণের ধ্যানে পিঠের বিশাল মাঠে
বুনতো সুখের উম
যেন গলদেশ-আলপথ থেকে নেমে আসা
চা-বাগানের পাঁচটি নারী।
চারটি আঙুল পুরে মুঠোর ভেতর
একটি দেখালো শুধু
ধু ধু রাস্তার পশ্চাতে যেন তপ্ত ইলেকট্রিক খুঁটি।
আর ছায়াহীন রোদ্র সাঁতরে চলা
জলহীন প্রেমহীন তৃষ্ণার্ত প্রেমিক
বিরহ বাহনে বসে
ছুটে যাচ্ছে বহুদূরে, বহমান ব্যথার বাণিজ্যে।