Print

আদমজী ডটকম

প্রযুক্তি প্রধান যুগে গুডবাই শ্রমের শরীর।

কুড়ি হাজার প্রবীণ শেষে কৈশোর হারিয়ে কাঁদে

কুড়িশত কোটি ডলারের বুড়ো লোহাগুলো,

একশ’ কুড়িটি কম্পিউটারে আবার নেচে ওঠে

পাশে মাত্র একশ’ একুশজন কারিগর,

মানব রোবট। আর ভেঁপু নয়,

মানবিক বাঁশি নয়,

তারা সব হাতঘড়ি সাইরেনে

কাজের আগল খোলে আঙুলে-বোতামে।

সেই তাদের জন্যেই কুড়ি হাজার পুরনো পাপ পথ করে দিলো। নতুনে-

পুরানে আড়াআড়ি, সোনালি করদর্মন! তারপর স্মৃতির বিষয় হলো

আদমজী পাটকল। এনসাইক্লোপেডিয়া থেকে নীরবে বিদায় নিলো

সুবিশাল কলের গৌরব, শ্বাসভরা আঁশের অধ্যায়।

পাটের পাঠ কি চুকে গেলো? তবে পাটখড়ি জীবনের গান, দারিদ্র্যের

আসমান শ্রমের জমিন, টালিখাতা, বেতন-বোনাস, গ্রাচুইটি দাবি-দাওয়া,

মার্কস-এঙ্গেলস-ঘঁষা সিবিএ’র চাবি সব ছিলো, শুধু খোঁয়া গেছে পুঁজির

তালাটি।

শ্রমের শরীরগুলো একটি একটি চাবি।

একটি একটি কাস্তে-কুড়াল-কোদাল-খুন্তি

শক্তি আছে কিন্তু খুড়বার মাটি নেই, কাজ নেই...

কাটবার গাছ নেই, মাছ নেই

শ্রমের কবিতা নেই,

গলা আছে তবে গান নেই জন হেনরীর সুরে সুরে!

খিদে আছে তবে খাদ্য নেই

বাদ্য আছে তবে নৃত্য নেই

ভৃত্য আছে, মানবিকতার বাতিঘর নেই।

একজীবনের ভালোবাসা দেবে,

                এমন মুদ্রার দান অনুদান নেই!

 

উৎপাদনের আহামরি নিয়ে শ্রমের আনন্দে মাতে,

বিক্রির বাজার নেই।

কিন্তু রোমাঞ্চ স্থবির,

হৃদয় কিনবে কেউ?

কপিকলে মাপ তোলে, নিলাম ওঠে না!

সোনালি আঁশেই ফাঁস বলে বলে

যতোই বুনুক তর্কজাল,

শ্রমের হরিণী সব নবজন্ম নিচ্ছে

                প্রযুক্তির গুণমণি গর্ভে।

শতাব্দী সাজিয়ে, ওজন হারানো স্লিম স্লিম শ্রমগুলো,

শো-রুম ধাঁধানো বহুরাশিক অধুনা হরীতকী যন্ত্রগুলো

সাইবার ক্যাফেগুলো ছড়াবে মন্ত্রমুগ্ধতা।

বিমুগ্ধ মানুষ দেখো কূলতিলকের মাথা খেয়ে নিজেকে বিমুখ করে,

শ্রমকে তাড়ায়। বাড়ায় আঙুল, তর্জনীর মৃদু স্পর্শে আগামীর মনিটরে

রাখে বিজ্ঞানের গ্লুকোমা ছোঁয়ানো টগবগে দুটি চোখ। শিল্পপার্ক,

পরিবেশ বান্ধব বাণিজ্য রেখে খানিকটা ব্রাউজিং শেষে খোঁজে

শ্রমইতিহাস

গড় আয়, জিডিপির পাশে হয়তো হাসবে কৃষির সাফল্য। তবে পাশেই

কাঁদবে প্রাচীন কৃষক, মুটে, শ্রমজীবী। হয়তো জানান দেবে, একদা

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দীর ষাটের ভাগ্যরেখায় একজন পাটের জ্যোতিষ

আসেন। বাজার বসান কলে আর শ্রমে প্রতিযোগিতার। আদমজী নাম

নিয়ে জন্মেছিলেন মানুষ হয়ে, একবিংশ শতাব্দী তাকে মৃত্যু দিয়েছে

যন্ত্রের যন্ত্রণায়। কাজের বিশাল হাটে সূর্য ডোবে অন্ধকার শূন্যতায়।

একশ’ বছর পর অথবা সহস্র শেষে

থাকুক স্বদেশ, মৃদু ইতিহাস।

আত্মহত্যার বদলে বেঁচে থাক একটি চিকন নদী শীতলক্ষ্মা।

একটি চিকন চাঁদ কিংবা এক ফোঁটা সুদূর নক্ষত্র হয়ে

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপিঠে, কম্পিউটারে একটি তিলক

                এক আকাশ কষ্টের একবিন্দু স্মৃতিজল

                সযতেœ জাগিয়ে রেখো প্রিয় ভবিতব্য

                আমাদের সুনামের জুয়া খেলানাম:

                                আদমজী ডটকম!