এই হোক শেষ রক্তবিন্দু
এই হোক শেষ রক্তবিন্দু বললেও পৃথিবীতে
অস্ত্রের সঙ্গীত থামবে না।
ফিরে যাও সাঁড়াশি সভ্যতা বলে
শুরু হোক যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলে
কাঁদছি অস্থির পৃথিবীর সন্তানেরা,
প্রতিটি পবিত্র দিন একে একে শহীদ দিবস হয়ে যায়
আমাদের চোখের জলের দাম
রক্ত-শোকের ডাস্টবিনে ফেলে দেয় সশস্ত্র পৃথিবী।
জানি
এই হোক শেষ রক্তবিন্দু বললেও
তৃতীয় বিশ্বের মাটি থেকে
সবুজাভ শস্যের বদল রক্ত রং ফসল জন্মাবে,
ফাঁসিতে ঝুলবে আসামীর শোকার্ত শরীর
বৃথাই লিখবে যতো শান্তির সংবাদ সাংবাদিকবৃন্দ,
অতিদ্রুত মূল্য ও জনপ্রিয়তা বাড়বে মারণাস্ত্রের
পৃথক পথিক হয়ে ক্রন্দন ছড়াবে সব রক্তের সম্পর্ক,
এই হোক শেষ রক্তবিন্দু আজ আকাশে-বাতাশে ধ্বনিত হলেও
নিরাময়হীন মাস-কাঁদা নারীদের অসুখ যাবে না,
সভ্যতার কোমল অঞ্চলে
নিয়মিত রক্তস্রাব মেলে দেবে সুলোহিত বোমারু সন্তান!
কবিতার কাগুজে সংলাপ আওড়িয়ে আমরা
বসবাস করি অনিন্দ্য শান্তির মধ্যে,
এই সমাবেশ, বক্তৃতার বাহুল্য এবং এখানে আমি
দ-ায়মান স্বাপ্নিক
রক্তের বিরুদ্ধে, অস্ত্রের বিরুদ্ধে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে
ফুলে-ফেঁপে উঠছি ক্রমশ এক ব্যর্থ বেলুন আর
নিজেকে হঠাৎ বেশ শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যস্ত প্রতিষ্ঠান
অথবা জাতিসংঘ-জাতিসংঘ মনে হয়, কেননা
এই হোক শেষ রক্তবিন্দু বললেও আমরা আবার
আরেকটি শোক সমাবেশে অচিরেই যোগ দেবো।