ফিরে যাও সাঁড়াশি সভ্যতা
ফিরে যাও সাঁড়াশি সভ্যতা
সভ্যতার হুতাশন
আধুনিক আদিমতা
নোনা প্রতিবেশী ফিরে যাও
ফিরে যাও!
পৃথিবী মানুষ চায়।
মানুষ পৃথিবী চায় রৌদ্র রং ভালবাসায়।
এখানে অরণ্য এনে ছড়ালে বাঘের হিংস্রতা
শিকার-সম্রাট পচাব্দী গাজীর চোখ
খুলে দেবে দ্রোহময় বিশাল হুঙ্কার।
বাকলবিহীন আদম শরীর আমাদের,
ব্যাকরণ-বৃক্ষ পাণিনির মন্ত্রমুগ্ধতায়
একদা নিয়েছি তুলে মূক মুখে সামাজিক শব্দরীতি।
জন্ম জন্মান্ধের দ্রাবিড়তা ভেঙে উড়িয়েছে লোহিত হরিৎ
পত পত পতাকাটি...
আঁকা বাঁকা শরীর সীমানা ঠুকে বিধে দিলে সুঁচ
তেষ্টায় জলের বদল বাড়িয়ে দিলে বিরহের বাঁধ,
ভর সন্ধ্যয় জ্বালাল অস্ত্রের সেঁজুতি
আমরা তো ধ্বসে হারানো পম্পাই শহরের ছেঁড়া পাতায়
পনের বছর পর
আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া কদাচ ওড়াতে চাই না, চাই না,
মানুষে মানুষ ঘষে
হোক নির্মিত আবহমান সুখ সমাবেশ।
সাগর নদীতে চাই মুক্ত রোদের কলস।
উস্কানি উন্মুখ সেই কলস ভাঙার অসভ্য পাথর
ফিরে যাও, ফিরে যাও।
পুলিশেই আশ্রয়, প্রশ্রয়
পুলিশও পাগল হয় কেননা সে যন্ত্র নয়।
যন্ত্রণার বাঁধগুলো পুলিশের ঘাড়ে ঘাড়ে
রেখেছে মানুষ, গরিব দেশের খতিয়ানে-
হাজার লাখের প্রাণ পাহারায় কতোজন?
অভাবী আগুন-পোড়া মাটি এতো জ্বলে ক্রোধে-
প্রতিশোধে, পানি-পড়া দিলেই বিপদ,
মামলার মৌমাছি মুহুর্তেই বিক্রি করে
হুঁলের কৌশল...
যৌতুক-সে এক আবহমান সামাজিক নেশা,
পাশবিক যাতনায় কিশোরীর ঘোর লাগা,
মহল্লা-পাড়ায়, শান্তি-সবুজের পাটক্ষেতে
মিনিট মিনিট ঝরে কৌমার্যের কচি পাতা,
কতো অপরাধ কলস-দড়িতে নদীতে লুকায়-
কতো সাফল্য সংবাদ চরদখলের বালুতে শুকায়।
এতো উচাটন প্রলোভন- মানুষ সাজায়,
নাকের ডগায় ঝোলে অপরাধী লাউ,
হাউমাউ কান্নার কোরাস তোলা পৃথিবীতে
মানুষ দমনে মানুষের আর কোন বিকল্প বিজ্ঞান নেই,
অসভ্য-অজ্ঞানে আর অনিয়মে ডোবা অবেলায়
আক্রান্ত শরীর-প্রাণ-সম্পদ যখন শিশুসুলভ অসহায়-
অমানুষ ভরা দেশে পুলিশেই আছে আশ্রয়, প্রশ্রয়।