সভ্যতার শেষ পাঠ
হানাহানি এক প্রাগৈতিহাসিক রোগ।
সভ্যতার সেবা পেয়ে
সাতাশ হাজার বছরের সার্ভিস জীবন
সাতান্ন হাজারে অবসরে যাবে,
যাচ্ছেই আদিমানব, নিয়ান ডারথাল-হোমোসেপিয়ান্স
দেখো তার চোখ-মুখ-চুল অবসন্ন, উদভ্রান্ত।
একজীবনের ক্লান্তিঘড়ি
শান্তিচুক্তির বারোটি ঘরে কাঁটাকে পাঠায়,
তবে তা বাজে না।
বাজলেও বোমাশব্দে, অস্ত্রের উল্লাসে,
প্রাণের আহাজারিতে, ফিলিস্তিনের গঞ্জনায়
গুজরাতি গোখরার ফোঁসফোঁসে
কাঁটার সানাই সুর ঘড়ির কানেও
কানাতে পারে না চেতনার ঢং ঢং।
সভ্যতা গোটায় হাত,
পরিভ্রমণের ব্যাগ-ছাতা-দূরবীন
দয়িতার কাছে জমা দিয়ে বলে-
মানুষ এনেছে যাকে, তার আয়ু মানব সমান নয়।
মানুষ আগেও ছিলো, পরেও থাকবে।
কীর্তি দেখার নেশায় ইবনে বতুতা, হিউয়েন সাং
কিংবা ভাস্কোদাগামা আবার কাটবে টিকেট পর্যটনের।
তবে আকাশের স্বপ্নচাঁদ পায়ের তলায় পেলে
জুজুবুড়ি ভূত শৈশবের ভয় কেটে যায়।
একশ’ একুশ তলা জোড়া সাফল্যকে তাই
বাড়ি মারে বিনাশের বিপন্ন নেশায়।
প্রাণহানি-সে এক হাতপাকানো গুলতির খেলা,
পারমাণবিক প্রেম বা বিশ্বাস প্রগাঢ় বলে
সমরবিদেরা পায় সবুজ দেশের শীর্ষ তদারকি
যেন তাম্রযুগ থেকে অস্ত্রযুগের বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার,
এশিয়াকে পেতে জটপাকানো জটিল গিট খুলতে না পেরে
তরবারিতেই খুঁজে দেন সমাধান।
আবার লুণ্ঠিত মহামূল্য বাক্শে সযতেœ রাখেন
মহাকাব্য ইলিয়াদ।
কি বিচিত্র মন, সামান্য জ্বরেই কীর্তিদেহকে বিদায় জানালেন।
যুদ্ধের মেগানায়ক গুডবাই, কিন্তু যুদ্ধতো গেলো না।
হানাহানি এক প্রাগৈতিহাসিক রোগ-
তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছে আজ চিকিৎসক।
আপাত বিদায় নিচ্ছে সভ্যতার সেবা,
অবসরে যাচ্ছে মেগাস্থেনিসের স্মৃতিপাঠ,
দ্বন্দ্ব খুলে যাচ্ছে শ্রমিকের সাথে প্রযুক্তির,
সন্দেহ বাড়ছে সশস্ত্র পাহারাদার আর মালিকের,
ছোটো হয়ে আসছে কবিতাছন্দে সেজে থাকা পৃথিবী-পুরাণ।
গদ্যময় জীবনের সাথে গদ্যকবিতার জোড়াতালি
খাপ খেলেও যন্ত্রযুগের সাথে কে মেলাবে যন্ত্রকাব্য...?
সৃষ্টিশীলতার হয়তো যবনিকা,
উফ কী যন্ত্রণা!
আত্মাকে এড়িয়ে আজ যন্ত্রকে বরণ,
বিদ্যার বদলে বাড়ে বাহুর ক্ষমতা, তাই
এখানে শেষ পাঠ; সভ্যতার প্রথম অধ্যায়।
ফের আদিমতা, কোটি বছরর
হয়তোবা তারপর ফের সভ্যতার সংযম।