Print

ফাঁসির ফাগুন নিয়ে ফুটে আছে ফেব্রুয়ারি

ফাগুন দখলে ছিলো হলুদিয়া নারী-শাড়ি বসন্তের।

ফুলেল বিকেলগুলো না শীত না গ্রীষ্ম

না প্রেম না শরীর এমন

মাঝামাঝি রোমান্টিকতায় দোলাতো হৃদয়-পাখা।

 

এখনও তেমন দিন বয়েস ছাপিয়ে নারীরা শরীরে ধরে।

তবে তারও চেয়ে ফাগুনকে অধিক খেয়েছে ফেব্রুয়ারি,

যেমন ঋতুর ছয়রানিকে হরণ করে প্রকৃতির পাগল কসাই

 

মাঝে মধ্যে মনে হয়

শরৎ হেমন্ত বসন্ত কী চলে যাচ্ছে লাশ কাটা ঘরে?

ফাগুনকে আগুনে পুড়িয়ে অবশেষে ফেব্রুয়ারি

অবশ্য দিয়েছে খাঁটি সোনার ভাষার অলংকার,

মাতৃভাষা দিবসের বেলুন দেখছে উৎসবের বিশ্বায়ন।

 

এখন কে বেশি সাজে  পয়লা ফাগুন

     নাকি ভ্যালেনটাইন্স ডে?

মননে কে বেশি কাঁদে একুশে ফেব্রুয়ারি

           নাকি বাংলা ভাষা?

 

ইংরেজি পড়েও বাংলাকে রূপসী দেখেছেন

এমন জীবনানন্দ জন্মালেও, হাজার বছর হাসলেও

কিছু রক্ত-কান্না, শোকের অববাহিকা জল-মাটি ছুঁয়ে থাকে।

 

রফিক-সালাম-বরকত বা জাফর-জয়নাল-দীপালী, সেলিম-দেলোয়ার,

মিলন-জেহাদ-নূর হোসেন, তাজুল-আসাদ, প্রীতিলতা-সূর্যসেন,

ফকির মজনু শাহ্-তিতুমীর-নূরলদীন-ক্ষুদিরাম...

কত শত মুখ স্মৃতির চিবুক, বেদনার বীররেখাচিত্রের পোর্ট্রেট,

ফাগুন গেলেও ফেব্রুয়ারির গুদামে, শহীদেরা থেকে গেলো

     নাভীমূল মানুষের ভাষায় মুখর, স্মৃতিতে ডাগর,

     টগবগে প্রীতি-কৃতী; বিস্তৃতির ইতিহাস।