ও আমার নকশী কাঁথা
রক্ত লাল সুতো আর হৃদয়ের শ্রমে বোনা প্রিয় নকশী কাঁথা
কেবল রয়েছে এই পোড় খাওয়া বুকের ভেতর গাঁথা
হয়ে। যুগের তাবৎ দুঃখ সয়ে সয়ে
এখনও কাঁথাটি ফিরে এলো না আমার ক্ষয়ে ক্ষয়ে
যাওয়া বিবর্ণ চৌকিতে, নারকেল ছোবার শ্যামল রং তোষকে।
সুবর্ণ কাঁথাটি আজ বিবর্ণতায় কাঁদছে, কেঁদে যায়।
কতিপয় মসলিনের তাঁতী একদা হারালো অবেলায়
মৃন্ময় সুঁচের শ্রম; বুনিয়াদি আঙুল বৃটিশ শাসনের কাছে;
তবু সভ্যতা ফেলেনি দীর্ঘশ্বাস। বাঙালি জীবন ভাতে-মাছে
এখনও যেমন হোক কদাচিৎ বেঁচে আছে,
কিন্তু চওড়া-দীঘল প্রিয় আমার কাঁথাটি আজ স্বেচ্ছায় পোষে কে?
যে তুমি নিকটাত্মীয় এক
ধরে আছো অধিকার আর কেবল আমার পরিত্যাগ,
খুঁজে দেখো কাঁথার ভেতর জীবনের প্রতীক প্রয়াস
রাত্রির বরফ কাটা হাতুড়ি আলোক নিয়ে সূর্যের উচ্ছ্বাস,
আছে চন্দ্র আছে নদী; আকাশে পাখির পথ হারাবার
উন্মুখ আঙিনা যেন স্বদেশের মানচিত্র এবং সুতোয় সেলাই করা
উঁচু-নিচু দশ কোটি নকশা কাটা বুননের এক বসুন্ধরা।
নকশী কাঁথা একদা শৈশবে সবুজ জীবনে ছিলো
শৈশব তখন শুধু জননীর কোলে পিঠে ছিলো
কাঁথাটি এখন আর শৈশব বা জননীর বুকের নিকট নেই।
আমাকে পৌঁছিয়ে দেবে বলে জনৈক নিকটাত্মীয় ধেই ধেই
করে আনলো শহরে
এবং পলকহীন অপর পহরে
বানালো দেয়ালে এক কাঁচ ও কাঠের সুপ্রাচীন ফ্রেম,
বাঁধানো কাঁথার প্রতি তার জেগেছে হঠাৎ পরকীয়া প্রেম।
ব্যর্থ চৌকি, শ্যামল রং বিছানা তোষক আর
বালিশ ডাকছে, ঝুলন্ত নোটিশ ঘুমোবার।
কোথায় প্রশান্তি ঘুম। হৃদয়ে আমার
শরাহত পাখির পতন,
খুঁজে ফিরি ফ্রেমবন্দী নকশী কাঁথা এবং
রক্ষকের সজ্জিত ড্রয়িং রুম বাতাসের মতন।