Print

তার আগে চলো

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে

কবি নির্মলেন্দু গুণ ও মুক্তিযোদ্ধা কাদের শ্রদ্ধাবরেষু

 

পরীক্ষা পাগল মাস নভেম্বর বাসী হলে

দীর্ঘ ছুটির সাগর ডাকে আয়

আয়রে পাঠশালার জোড়া জোড়া পা,

     প্রাণের পল্লব, পান্থ প্রজন্মের

     মুঠিভরা ছুটিসুখ, মুখর শামুক।

বিশুদ্ধ বালিতে চিকচিক বিমুগ্ধ বালক-বালিকারা

শিখে নাও জীবনের সানন্দ সাঁতার,

     সমুদ্র-সন্ত্রাসের গর্জন গোগ্রাস,

সাজানো সী-বীচে শোয়া পাতানো শরীর

নগ্নতাকে ছায়া দেবে গাঢ় সানগ্লাস,

মেরিন ড্রাইভে ছুটে চলা অথবা দ্বীপের দিকে

     দোলাও ব্যান্ডের ঢেউ-খেলা স্পীড বোট,

 

ডাকে ইকোপার্ক। মাধবকু-ের জাদুজলধারা থেকে

ফণা-স্রোতে মহেষখালির বীরত্ব বিহার,

যমুনা নদীর কবরীতে দেখো পুলফুলমালা,

সুন্দরবনের বুকে একবার বাঘ হবে

আরেকবার বিনম্র হরিণ,

একবার ইমার্জিং  টাইগার,

 

বার বার হরিণী ফ্যাশনে চোখকাড়া দেশরতœ...

জালহীন জলের যেমন মাছ ভাবনাবিহীন

তেমনি সুখের দিন ঘন  ডিসেম্বর,

পাতা পাতা পড়া আর খাতা-খাতায় কলম যুদ্ধ,

তারপর রঙিন স্বাধীন, স্বদেশ-বিদেশ

জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে পুত্র-পর্যটক,

টমটম-ট্রেন থেকে উড়ানের টান দেবে কনকর্ড,

এত যে পরিভ্রমণ দোষ নেই,

তবে এতটুকু অনুরোধ

তার আগে চলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে,

তার আগে ধার দাও চোখ দুটো

প্রাণ খুলে দেখে নাও প্রাণের পাহারা কারে বলে,

পতাকার জন্যে কত পাষাণ-পরীক্ষা, রক্ত-সাগর

যুদ্ধদিনের জাহাজে দেখো শত্রু-শনাক্তের বাইনোকুলার,

শহীদের মাথার খুলির পাশে কাঁদে

     অশান্ত যোদ্ধার অবয়ব।

 

স্মৃতির সাঁড়াশি হাতে তুলে নিয়ে

জাগাও চোখের দু’টি পাখি

প্রথম ভ্রমণ দাও স্বাদেশের গলাকাটা ইতিহাসে,

তারপর পরীক্ষা তোমার

জাদুঘর আর জাদুকরে মেলাও তফাৎ!

 

উত্তর প্রজন্ম আজ দেখো

মুক্তিযুদ্ধ নেই, তবে যুদ্ধ রয়ে গেছে,

বিজাতীয় নেই, তবে বাবুদের জোরাজুরি,

স্বপ্নগুলো ফাঁস-কাঁদা ক্ষুদিরাম

     শুধুই খুন হয়ে যায়,

মুক্তিযোদ্ধার প্রবীণ মুখগুলো চেয়ে থাকে

     ভাস্কর্যের আশ্চর্য নীরবতায়।

 

মানুষ নায়ক খোঁজে, বৃটেনেও ছোটে।

মাদাম তুসোর জাদুঘরে মোম-মোলায়মে

যাকে ইচ্ছে তাকেই  দু’চোখে নাও,

তার আগে প্রগতি-প্রজন্ম পতাকার দেশে দেশে

     মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ছুঁয়ে ছুঁয়ে

     আগামীর মোমকে গলাও।