মোরগ-সৌন্দর্য
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মরণীয়বরেষু
পঁচিশের পাগল পুরুষ পেলো না প্রার্থিত পৃথিবীর পালকি
আলপথ ভেঙে ভেঙে বেহারার পদচিহ্ন খেয়েছে সময়,
কদম ঝুলন্ত এক টোপর মাথায়
অথবা দুরন্ত মোরগের ঝুঁটি-মতো দুলিয়ে মুকুট
যুবক গেল না দূরে, রাজকন্যের আদুরে হাতে বোনা
প্রণয় মাদুরে।
ভোর হলো দোর খোলো বলবার আগেই মা তার
নিভু নিভু কেরোসিন-শিখায় ছেলেকে খুঁজলেন কিন্তু
মুখ খুলে বসে থাকা উদার দরোজা বলে দিলো
সে এখন দূরে, মিছিলের সমুদ্দুরে ...।
সকাল উঠল হেসে, আড়মোড়া ভাঙল একটি মোরগ
ছেলেটা ডাকত তাকেÑ আয়রে আমার সক্রেটিস,
মা এবার হাসলেন আর দেখলেন
মোরগ রচনা করে যাচ্ছে তার ছেলের স্বভাবে
উরুতে ব্যায়াম, কণ্ঠে কোরাস ও পলকে আঘাত,
নাচিয়ে অর্ধচন্দ্রের বিচিত্র ধনুক পুচ্ছ
শরীরে পরেছে যেন পতাকা রঙের লাল-নীল পরিধেয়,
খুদ কুড়ো দিয়ে ডাকলেন কিন্তু শুনলো না,
ছেলেটাও শুনতো না।
তাকাতে তাকাতে মাকে পেয়ে বসলো হঠাৎ মোরগ-সৌন্দর্য...।
দু’চোখে জ্বলছে তার খড়ের জ্বালানি,
দিন শেষে রাত হয়, ভোর হয়
মা শোনেন খুপরির ডাক
চিবুক উঁচিয়ে মোরগের উঁচু আহ্বান কুক্রু কুউক
একটি অচেনা সকালের জন্যে দোর খুলবো
একটি অদেখা দিবসের জন্যে খুপরি ভাঙাবো,
একটি উদাত্ত কণ্ঠের পাশে মা যেন দেখলেন
নিশুতি রাতের একটি যুবক দেহ-ফোটা মোরগ স্বভাবে
ডাকছে এবং ঘরের দরোজা খুলে চলে যাচ্ছে দূরে...
রাতের বেদনা কাঁধ থেকে ছুড়ে ফেলে
টগবগে মোরগ অথবা ছেলেটি বলছে যেন
স্বাধীনতা, শুনেছি তোমার নাম, এবার দেখতে চাই।