জাদুর কবলে যুদ্ধ-যোদ্ধা
তারা শুধু খোঁজে মুক্তিযুদ্ধমাখা মৌলিক মানুষ।
অস্ত্রের সংবরণ মেনে হয়তো বোঝাতে চায়
হায়েনার হিংস্রতা এখন ভাবনার অতীত।
নরঘাতক অথবা নিমমোল্লার সাজশ এড়িয়ে
কানে তুলে দেয় বন্ধনের বোলচাল,
অকালবোধনে নয়, বচনবাগীশে ডাকে কাছে
যেনবা চৌদ্দই ডিসেম্বর, উনিশ’শ একাত্তর
বুদ্ধিজীবীদের বিজুবন বিহারে নিয়েই বিকৃত বিনাশ...
এইভাবে অমর্ত্যলোকের আহাজারিতে যখন
বাংলাদেশের বিবেক বিদ্রোহে জারিত হয়,
ঘুড়ির বদল ছাদে ছাদে তখন উড়তে থাকে
বারুদ-বাতাস সাথে সাফল্য পতাকা।
যদিও যুদ্ধ তার গোটালে সংসার
বর্শা-বল্লমের পরাজিত হিংস্র জেলে সব
ভেজা বেড়ালের পথ ধরে,
বছর বছর বুনে যায় অপহরণের জাল।
মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকে ঐন্দ্রজালিকের ছায়া,
ডালে ডালে থাকে আর ডাকে পাতায় পাতায়
মুক্তিযুদ্ধে যারা ছিলো পুরোভাগে, বিজয় বাগানে যেতে
হানে সিংহ-ছোবলে শত্রু-সন্ত্রাস,
নিয়মের ব্যাকরণে হারালো যখন তারা অস্ত্রের অহংকার ,
সময়ের যাতাকালে পিষ্ট জীবন পেলো না বরাদ্দ ভবন
তখনই জেলেরা মেলে দেয় বরাভয়,
জালের বিস্তারে টানে যুগের পরেও,
উম্ দিয়ে ঘুম পাড়ানোর গান ধরে,
জাদুর চমকে শেষে অধিশায়িত যোদ্ধাকে
বানিয়ে রঙিন মাছ ভরায় অ্যাকুরিয়ামে...।
তারা চায় যুদ্ধলগ্ন মূল চেতনার মৌলিক বাসিন্দা,
ঘোষণাকারীর পরিজন, সোনা-পিতলের ঐক্য,
সোঁদা-মাটি-মাখা সৃষ্টিমুখর কবির আপাদমস্তক,
বন্ধনের নতুন সুতোয় বোনা জাল ফেলে
ঘোলা পানিতে শিকার করে প্রতিপক্ষ মাছ।