মে দিবস বিষয়ক সেমিনারে
মাঠময় সুসজ্জিত ধানের রোয়ারা যেন বিন্দু বিন্দু ঘাম
ক্রমশ দখল করে দীর্ঘ প্রবন্ধকারের উদাস কপাল।
ডুবুরি স্বভাবে তিনি কালো অক্ষর বা বাক্য খুঁজতে গিয়ে
এতটাই নিমগ্ন যে পকেটের রুমালের কথা ভুলে যান।
চশমার দেয়াল কেটে কেটে তিনি সাঁতার কাটেন
সাদা কাগজে বা রক্তাক্ত স্মৃতির চৌবাচ্চায়।
তাপানল নিয়ন্ত্রিত সেমিনার কক্ষে প্রিয় সমাবেশ
হঠাৎ সেভেন-আপ, কোকাকোলা. মিরিন্ডার বোতলে জমায় পাড়ি
প্রধান অতিথিÑ মাননীয় শ্রম সচিবের রঙিন রমণী
কোল্ড ড্রিংসের পাইপে চুমু বসাবার আগেই দেখেন
হাত তার ভিজে গেছে বোতলের বিন্দু বিন্দু ঘামে।
একদা শিশির মাখা ঘাসের শরীর হতো তার নাকের উঠোন।
রাত-জ্বলা তারা হয়ে ঘামের নোলক করে সমাবেশ
কলেজ জীবনে এক স্বামী সোহাগীর সলাজ আখ্যায়
কেঁপে উঠতো বুকের স্বপ্ন
ওড়না-আঁচল শেষে শুষে নিতো বিন্দু বিন্দু সমস্ত সুন্দর।
এখনো রয়েছে তার আঁচলের সাজ, সুগন্ধী রুমাল, সুঁচালো নাক
অথচ প্লাস্টিক সার্জারির কোমল কাঁচির সাথে সাথে
হারিয়ে গিয়েছে সব স্বর্ণ স্বেদবিন্দু, নাসিকা সম্পদ।
রঙিন রমণী তার স্মৃতি রেখে প্রবেশ করেন সেমিনারে ।
আট ঘন্টা ছয় ঘন্টা শ্রম কী বিভ্রম এসব সংলাপে
ভাগ্যিস শোনেনি তার কাজের কিশোরী
কিংবা কোনো সক্রিয় শ্রমিক
যাদের শ্রমের পিঠে জেগে ওঠে বিন্দু বিন্দু ঘর্মাক্ত আঁচিল।
মাননীয় সচিবের রঙিন রমণী তারপর
ভেজা বোতলে জড়ানো তার প্রিয়তম রুমালটি
তাড়াহুড়ো করে লুকোলেন হঠাৎ ভ্যানেটি ব্যাগে।