শতাব্দীর জন্যে কাঁচের পুকুর
পৃথিবীর প্রতিটি সংসারে, গৃহে
সজ্জিত অ্যাকুরিয়াম নেই,
থাকলেও সীমিত-সাঁতারে সুখ ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কাঁচের দেয়ালে যারা গৃহবন্দী মাছ
তাদের দিওনা ছেড়ে অভাবের অবাধ স্বাধীনতায়,
শতাব্দীর শেষ অভিশাপÑ পানির জঞ্জাল
এমনকি জানাযায় যাবেন যে মরহুম
তার পবিত্র গোসল যদি ব্যর্থ হয়ে যায়...
এ রকম আশঙ্কায়
কাঁচের পুকুর এক বানিয়ে রেখেছি সজ্জিত সূচনা-কক্ষে,
গদি-চেয়ারের হাতলে কনুই রেখে শুনতে থাকবো
পুকুরের গান, রঙিন মাছের বুঁদবুঁদে কান্না।
এভাবে পৃথিবী কাঁদে
কাঁদতে কাঁদতে আসে নবজাতকের দল
তুমিও এসেছ নবশতাব্দীর জীবন-নাটক,
শত দরোজার পর্দা ঠেলে অবশেষে শীর্ষ কক্ষে এসে
বন্ধ করো চোখের কপাট, কান্নার কোরাস
সেখানে ঘুমাতে হয়,
ঘুম ছেড়ে উঠতেও হয়, প্রকৃতির ডাক সেরে
ধুতে হয় প্রিয় দাঁত-মুখ অবয়ব
আর এ জন্যেই শতাব্দী, সকল প্রবাহ ধারা বন্ধ থাকলেও
তোমার কল্যাণে আছে কাঁচের পুকুর,
তবে শুধু দেখবে, ছোঁবে না...
ছু’লেই আঠার ঘা, মানেটা
ছুঁতে পারবে না...।