তুমি না আপনি
তুমি না আপনি এভাবেই কেটে গেল সুযোগ্য দুপুর।
শিশুর বানান করা বাক্য তৈরির কৌশলে
আমিও সংশয়ে তুমি-আপনি এড়িয়ে
পথ হাঁটি সংলাপের।
কলেজের নাম করে এসে সম্মুখে উদাস বসে থাকা নারী
ভাঙেনা দেয়াল, সেও
খেয়াল করে না কত কবুতর-ব্যাকুলতা বাক্ বাকুমের।
আমি কি ছোঁব না হাত, ঠোঁট ফেলবো না ঠোঁটের নোঙর?
বনেদী কৃষক হাতে চারা রোপণের সুরে গোলাপি গোলাপ
খোঁপায় গোঁজার আগে রমণী স্বভাবে সে কি বলবে না
শাড়িতে আমায় কেমন মানায়?
সে কি জানাবে না রাতের কতটা ঘুম কেড়ে নেয় একলা আবেগ
সে কি জানাবে না কোন সে তারিখে কেঁদে ওঠে গোপন অসুখ
সে কি জানাবে না বাঁ বুকের পাদদেশে তার রয়েছে জডুল
সে কি জানাবে না উদ্বিগ্ন পিতার তড়িঘড়ি ছেলে খোঁজা গল্প?
তার চেহারার সুদৃশ্য প্রচ্ছদে অভিনেত্রীর অমিয় আবেদন মাখা
শরীর কাঠামো জুড়ে টগবগ করে এক রাগী খেলোয়াড়,
শোভন স্বভাবে সেতো পরিচারিকার নম্র প্রাণ
কণ্ঠে কুজন হয়ে জন্ম নেয় অবাক ঘোষিকা
হয়তো রন্ধন তার দক্ষ পাচকের প্রতিভার প্রতিসম
প্রতিকার চেতনার কত কথা অথচ বাতাস খেয়ে খেয়ে
তুমি না আপনি এ রকম সর্ম্পকের কাঁটাতার বেয়ে
আমরা সাবাড় করি আরো কিছু আনুষ্ঠানিক সময়,
আমার অথবা আমাদের যুগল উচ্ছ্বাস ঘুম পাড়ে জেগে জেগে।
আমরা কেবল বসে থাকি বাদামের খোসা ভাঙা
দুপুরের খিদে ভাঙা মেধাহীন জুটি
তুমি না আপনি এই দেয়াল ভাঙার অপেক্ষায়।
মাছের কষ্ট নাচনে হারায়
প্রিয় নৃত্যপটিয়সী প্রয়াত শিউলী আহমেদ এবং
অঞ্জনা, নীপা, মুনমুন, মৌ কে
মাছের হাড়েরা পাঁজর না হয়ে
কেনো হলো কাঁটা, কষ্টের ফলা
মাছেরা কী তবে রঙিন খোলসে
ভেতরে ভেতরে শরাহত দেহে
ডুবোজলপাখি, জন্মের কাঁটা
শুধু তড়পায়, শুধু মুক্তির
কাঁটা যুক্তির জীবনকষ্টে
দেহ আছড়ায়, লেজকে লাফায়,
তেজকে কাঁপায়!
মাছের হাড়েরা পাঁজর না হয়ে
শুধু কাঁটা হলো, শুধু কন্টক
শুধু ব্যথা-বিষ, বেদনাদায়ক।
কাঁটা চামচের ভাজা উপাদেয়
দাঁতের আদরে প্রাণীদের সুখ
কে খোঁজে মাছের গোপন অসুখ!
দুঃখ নেভাতে তাই কাঁটা মাছ
প্রতিদিন নাচে জলের সঙ্গে
জালের অঙ্গে নাচের শব্দে
কাঁটার কষ্ট নূপুরে হারায়।
এই কবিতাটি দেখেছে নৃত্য!
আধামাছভাতে তৃপ্ত ঢেকুর
তোলেনি তবুও ভুলে গিয়ে খিদে
মানুষ কেবল গান-কবিতায়
মনকে নাচিয়ে মাছ হয়ে উঠে,
মঞ্চ পুকুরে নাচে মাটি-মাছ।
কাঁটার সুক্ষ্ম দুঃখ কষ্ট
খানিক লুকোবে দূরের তারায়,
বেদনার চোখ মণিতে মুখর
সকল কষ্ট নাচনে হারায়।
দুঃখের মেঘ নাচেরা তাড়ায়।