এই ঋতুতে মাফ করে দাও
প্রতিবারের মতো আমায় এই ঋতুতে মাফ করে দাও,
মধ্যরাতে যখন ঝরে কৃষ্ণচূড়া শব্দ কোরে
আমার টোকা ভেবে তোমার দরজা খুলে ব্যর্থ হওয়া
অন্ধকারে পুত্র খোঁজা শোকার্ত চোখ
এবার ফেরা হলো না তাই মাফ করে দাও মাফ করে দাও।
বাক্সে রাখা নকশী কাঁথা, বেড়ায় গোঁজা হাত পাখাটা
খাটের নিচে কাঠের খড়ম কাল সকালে সরব হবে
আসবে ঠিকই এসব ভেবে রাতকে তাড়াও প্রতিরাতেই
আলো ফুটলে বাসি বাড়ির উঠান ঝাড়া,
খুপরি থেকে মুরগি ছেড়ে তাড়িয়ে দেবে; ভাত দেবে না
পান্তাটুকু পিঁয়াজসহ যত্ন করে শিকায় রেখে
অস্থিরতায় হারিয়ে দিশা বিভার কাছে বসবে এসে
ছ’টার গাড়ি কটায় আসে বলতে পারিস?
অনেক কিছুই যায় না বলা যেমন আমার ফেরার কথা
সেই যে এলাম রাত্রি জেগে তখন থেকে ফুরায় না রাত,
রঙিন আলোয় ভরা শহর এই আমাকে স্বপ্ন দেখায়
আর ক’টা দিন সবুর করো আর ক’টা দিন,
এখন গেলে তোমার করুণ মুখের পাশে আরেকটি মুখ
মূল্যবিহীন, তাছাড়া ভয় যাত্রাপথে দুর্ঘটনার
নীল যমুনায় সেতু হলেই আসব ফিরে।
প্রকৃতি ও ঋতু হয়ে আমি না হয় নাইবা এলাম
পাঁচটি আরো যাদের তুমি হাতের পাঁচ ভাবতে পারো
আমাকে বাদ, তাদের জন্যে আমায় ভুলে ব্যস্ত থেকো
হয়তো কোনো রাতের শেষে বোশেখ হয়ে আসবো আমি
বর্শা হাতে ভোরের শিকার, বনভোজনের ঢের আয়োজন
মটরশুঁটি ডালের ভাজায় নিমের পাতা চিবিয়ে গেলা
বালক বেলায় হারিয়ে আসা পয়লা বোশেখ,
অট্টরোলে জমাট মেলা সিক্ত হবে চিকন মাটি
আসবে মানুষ হাসবে গ্রাম, হালখাতা সব দোকান ঘরে
জীর্ণতাকে গুটিয়ে রেখে নতুন হিসেবে শান্তি সুখের
এমন করে আসতে হলে প্রস্তুতি চাই
এই ঋতুতে এলাম না তাই মাফ করে দাও, মাফ করে দাও।
*যমুনা সেতু নির্মাণের ১০ বছর পূর্বে লিখিত ও প্রকাশিত (১৯৮৬, দৈনিক বাংলা)
শর্টম্যান উইথ এ বিগ শ্যাডো
চার্লি চ্যাপলিন, আশা ভোঁসলে, জ্যোতি বসু, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন, বিচারপতি মোস্তফা কামাল, নির্মল
সেন, পি এ সংমা, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এম এ মালেক, সুভাষ দত্ত, গিয়াস কামাল,
মমতা বন্দোপাধ্যায়, আহমদ জামান চৌধুরী, অধ্যাপক রফিক, সেলিনা হোসেন, আজম জে. চৌধুরী,
সায্যাদ কাদির, মাশুক চৌধুরী, আবু কায়সার, ইউসুফ পাশা, আবুল কাশেম হায়দার, শাবানা সাদিক,
আমীর খসরু, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, আবু মুসা চৌধুরী, শমী কায়সার, আফসানা মিমি... প্রতিয়েষু
হ্রদ নয়, লম্বা নদী নয়, পুকুরে সাঁতার নিয়ে এই গল্প।
এটা উপন্যাস নয়, শেষ হয়েও হবেনা শেষ
এমন কাহিনী ছোটোখাটো তবে বিশাল পটভূমির।
পুকুরের পাশে কোনো উঁচু তালগাছ নেই
তবে বটগাছ আছে পোক্ত পরিসরে
যেখানে বালক ওঠে, দীঘিজলে লাফ দিয়ে
খোঁজে সাঁতারের সুখ। খোঁজে তার তল করতল,
কাদা-মাটি শামুকের ঘষা, খাদ ভরা মাছ-পোনা,
হঠাৎ শিকড় পায় অতল গভীরে প্রাণময় কাঠ
ছিপের আদলে সেই আলগা মাটিতে গাঁথা কাঠরশি
অবশেষে বালককে পৌঁছালো বৃক্ষের মূলত্র অঞ্চলে
আরে একি সেই বটবৃক্ষ পদজট এতটা ছড়ানো?
পুকুরকে ধরে আছে শিকড়ের বেজমেন্ট
জালিকা পিলার আর পুকুরও রেখেছে ধরে
মাছের মৌসুম, গোসলের সিঁড়ি, পবিত্রতার পদভার
সেঁচের সাঁওলি, মৎস্য-চাষের বিনিয়োগ, সাঁতরানো উপভোগ
তবুও পুকুর বলে আমার কাহিনী নয়,
ওদিকে তাকাও, অই বটগাছ সেইই দয়াময়
সেইতো ছায়ায় রাখে, অক্সিজেনে বাঁচে মানুষ ও মাছ
যতটা আদর দেয় চোখ তার কতটুকু পায়।
পুকুর বা বৃক্ষ শুধু নয়,
কতিপয় বামুন মানুষ চাঁদকে ধরতে পারে,
এইসব খ্যাতিময় খনি আর জ্যোতির্ময়দের
ছবি তোলা হয়তো খানিক কষ্টকর,
হয়তো কৌতুক করে ফটোগ্রাফার বলেন
মাথাটা তুলতে হবে, আরেকটু উঁচু, আরেকটু, আরেকটু...
সরি ম্যান, সরি-
লাইক এ শর্টম্যান, উইথ এ বিগ শ্যাডো...
উইথ এ বিগ শ্যাডো।