গুডবাই গাড়িয়াল ভাই
শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক,
শিল্পী সুখ বিলাস বর্মা ও সংগঠক নূর ইসলাম বর্ষন সুহৃদয়েষু
ঘুমন্ত গ্রামগুলোতে জেগে ওঠে নতুন সড়ক,
ঘনচুলের ভেতর নারী যেমন সিঁথিকে পায়
সেভাবেই কৃষক, হাটুরে,
বাল্য-শিক্ষার সবগুলো পা
খুঁজে পায় শহুরে সংযোগ।
শ্রমে শ্রমে কাঁধে কাঁধে
কাজের বদলে খাদ্য দিয়ে ভরে ওঠে মেঠোপথ,
কোচবিহারের কাঠ, বুড়িমারির কয়লা স্মৃতিকে পোড়ায়
তারপর ভোজনপুরের পাথর, ডোমারের বালি,
ছাতকের সিমেন্ট, বাংলার অধুনা উপাদানে
সড়ক সোমত্ত হয়, রঙে-রসে পাকা হয়ে ওঠে
শুধু ফাঁকা থেকে যায় গরুর গাড়ির ছইঘর।
শতাব্দী প্রাচীন সব কাঠের চাকায় লোহা বেড়ি
পিচঢালা পথে পেলো নিষিদ্ধ-নোটিশ,
যেমন মেহেদী, লিপিস্টিক পেলে
গ্রমীণ রমণীও আলতাকে ঠেলে দেয় তাকের ওধারে...
দূরে, বহুদূরে চলে যায় সেই প্রাণ ছোঁয়া গ্রামোফোন
ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত র’ব আমি...
মরমী আব্বাস সুরে সুরে যে গাড়ি চালিয়ে দিলেন
অটোরিক্শা ভ্যানের বিবর্তনে
তা আজ চিনেছে ঢাকা থেকে কলকাতা,
কাঁচা সব্জি-ফসল-মুরগি সব নগর-বাজার ছুঁয়ে যায়
আর শুয়ে যায় একটি প্রজাতি, গাড়িয়াল ভাই,
ঘাড়ের গামছা তার মুছে দিয়ে যায়
ধুলো ওড়া কাদা-মাটির পথের ক্লান্তি-ঘাম,
পল্লী বিদ্যুতের নতুন আলোয় দেখে তার অবয়ব
নিড়ানি জমিন, বাতিল বয়েস বলে যাই যাই।
ট্রাকের বহর ঢোকে হাতির বদল, নতুন মাহুত
ভালোই আওয়াজ তোলে: গুডবাই
গাড়িয়াল ভাই, গুডবাই...