আজন্ম কবিতা রাশি
পঞ্চাশ পেরুনো জন্মদিনে,
বাবা-মা হয়তো বুঝলেন
আমি কোনো সন্তান জন্মিনি।
আমার মানবভ্রƒণ ছিলো এক প্রহসন?
বাবা-মা হয়তো হিসেবের টালিখাতা খুলে
সেই জায়মান শিশুর কান্নাকে আজ আর
স্বাভাবিক সমাদরে দেখতে নারাজ।
দেখলেও অবাক হন, কী করে এই সন্তানের ছায়া
নাভী ছিঁড়ে দখলে রাখলো কোল,
বোঁটায় রাখলো প্রাত্যহিক ঠোঁট, ¯েœহের দুলুনি
আঁচলের পাড়গুলো ইঁদুর চিকন দাঁতে
চাটতে চাটতে
ঘুম পাড়ানির স্বপ্নপদ্য কাটতে কাটতে
আমের কলম চারা ঘাটতে ঘাটতে
হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্ট হাঁটতে হাঁটতে...
বয়েসের চিঠিখামে আঠা-গাম সাঁটতে সাঁটতে
পঞ্চাশ পেরুনো জন্মদিনে
প্রত্যন্ত বাবা-মা দেখলেন
একটি পাগল চিঠি
একটি পরাবাস্তব চিঠি
একটি পোস্টমডার্ন চিঠি
পাঁচ ফুটের চেয়েও সৌম্য একটি দীঘল খামে
হাসছে একটি বাহুরঙ কবিতা-কলম,
স্বয়ংক্রিয় ফলায় লিখছে এপিটাফ
আমাকে মার্জনা কোরো সকল মা-বাবা
আমি এক নিজস্ব অনৈক্য আত্মা
ফুটিনি মানুষ তবে অমানুষ রঙেও ডুবিনি।
ধন্য আমি এই শীতাতপ কলমজন্মের জন্যে,
ধন্যবাদ মাতৃক্রোড়, পয়মন্ত পিতৃ-পরিচর্যা
পেশার শাসক, জীবিকা নগর, পাশফেরা পরিবার
ঐন্দ্রজালিকের কতো মঞ্চ, কতো জাদুর খসড়া শেষে
দেখো এইবার চূড়ান্ত চমক
সকল আনন্দ-ব্যথা সারিবদ্ধ মিছিল সাজিয়ে
হ্যামিলনের কাব্যবাদক আজ শেষযাত্রায় সামিল
জন্মকলমটিকেই বানিয়েছি বাঁশি,
সুরে সুরে ডাকছে সাগর, স্রোতের সন্ন্যাসী।
আমার জ্যোতিষ আমি, আজন্ম কবিতা রাশি!