Print

কবি আর দ্বিতীয় পৃথিবী

সৃষ্টিকর্তা যদি ঘোষণা করেন আরেকটি পৃথিবীর আগমন

আরেকবার লিখতে বলেন কবিতা-কোরান;

বেদ; বাইবেল; গীতা বা সৃষ্ট জাতির মহাসংবিধান

তাহলে কী কবিরাই নবীপদে

ছবিহীন ভবিতব্য হবেন?

 

না হলে এখন কেনো এই অভিশপ্ত কবিজন্ম?

গাভীহীন গোয়ালে, সংসারে আজ

দুধের তৃষ্ণা নিয়ে রাখাল কবিরা চরে।

কবিতার ঘাসপাতা, জায়মান সবুজ লতাগুল্মে

চোখ নেই, মন নেই ফাস্টফুড-প্রেমিক পাঠকের।

 

তবুও পাঠাও কবি, নবজন্মে,

নাঙা কলমের কৌতুহল জুড়ে দিয়ে!

লাঙলের পাশে জোড়া বলদের পেছনে পেছনে;

ট্রাক্টরের হাঙর-চাকার ওপর আসনে

একজন কৃষক বা এক সৃষ্টিশীল শাসক থাকেন,

তারপর ফসল-কবিতা, উৎপাদিত আগামীকাল...

এভাবে কবির আত্মা উৎপাদনে অথবা

পুরনো আত্মায় কাব্যভ্রুণ পুরে দিয়ে

কেনো যে বানাও প্রভু কবিদের শতদল!

 

কবিরা ফেরেশ্্তা নয়, সাধারণ মানুষও নয়!

সৃষ্টি রহস্যের মৌলিক মালিকের অনন্য সহকারি।

তাদের কাজের সাথে সহিংস পৃথিবীর

ব্যবধান ঘটে গেলে, তারপর?

আরেকটি অবকাঠামোর জন্যে কি কবিদের পুঁজিজন্ম?

আগামীর চার?

কাব্যভাষাময় সভাসদ থেকে নেমে এসে

প্রভূর বন্দনা জপকারী আসমানী সেনাদল?

দ্বিতীয় পৃথিবী হলে শিল্পিত শাসক ছাড়া,

ক্ষমতার খলিফা অথবা পোপের আদল ছাড়া

বিশপের বাণী-বাঘ;

পূজারীর মন্ত্রকাব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতাপ ছাড়া

          কবিদের আর কোনো আধকু’ড়ে ভূমিকা দেখি না।