বাংলার বাঘের পিঠে টেড হিউজের কবিতা শিকার
শুধুই শব্দ-শিকারী নন,
বনের পাখি ও পশুরা রক্ত ঝরার সাথে
প্রাণ-প্রপাতের শেষ কাব্যটুকু
কেমন কাতর কণ্ঠে আবৃত্তি করে যায়
এই আকুলতায় আনন্দ আহরণের কাজে
তার কবিতার হাত দুটো ছিল শিকারীর ছায়াতল।
তিনি এক বৃটেন-সদৃশ্য সুদীর্ঘ কবি-দেহ, টেড হিউজ,
বউ তার কবিতার সাথে করে গেছে সহবাস
আত্মহননপ্রবণ এক বিমূর্ত বিষাদের নারী, সিলভিয়া
পশু ও পাখি হত্যার প্রতিবাদে
পরকীয়া-প্রবণ পৃথিবীতে অযাচ প্রেমের আগুন এড়িয়ে
শরীরে আগুনেরই হলকা নিয়ে
হয়ে ওঠেছিল ঘঁষা-মাজার ছাঁই।
তারপর বউ-এর ছাঁই দিয়ে কবি টেড মাজলেন মনের বাসন-কোসন,
খুলে ফেললেন শিকারীর বাকল, ডাকাবুকো গামবুট
খানিক বিরতি দিয়ে ছুটে গেলেন বিশুদ্ধ গ্রামে,
খামার প্রেমিক এক নারীকে প্রণয়প্রেমিকা বানিয়ে
চালালেন সন্তান-বাদাম আর কবিতা উৎপাদনের উদ্যামতা।
ডেভন গাঁয়ের খামার পুকুর আর বাগান ভরা কবিতা
গোগ্রাসে গিলে নেয় স্বদেশ-বিদেশ,
ভরে ওঠে পদকের গোলা, খ্যাতির গম্বুজ,
খুলি-বৈঠকের পিঁড়ি থেকে চামড়া-খসা ব্যাগ হাতে
বৃটিশ রাজকবির সোমত্ত আসনে বসতেই টেড হিউজ
ভাবতে থাকলেন তার লেখার টেবিলের কথা
টেবিলে শায়িত ডোরাকাটা বাঘের চামড়ার কথা...
লোমশ গন্ধের পেলবতা নিয়ে লিখতে লিখতে;
ঐ মৃত চামড়াকে জেগে উঠবার আকুলতা জানাতে জানাতে...
তিনি নিজেই হয়ে উঠলেন কবিতার বাঘ, রাজাদের কবি।
আর সেই শতাব্দী প্রাচীন চামড়ার অদৃশ্য টসবগে আত্মা
বৃটিশ শাসনকালে বাংলার সবুজে
রক্ত-রঙ বেলুন হয়ে ফেটেছিলো,
নিহত হয়েছিলো লর্ড কার্জনের বন্দুক-বীরত্বে,
তারপর ব্যাঘ্র-বাকল উৎসব, শ্যাম্পেন ঢেলে
রক্ত ও গন্ধ মোছার ক্যাম্প-ফায়ার।
কত নিলামের পথ-ঘাট পেরিয়ে অবশেষে কবির সংসারে
বাঘটি মেলে দিয়েছে দুর্লভ চকর-বকর কলাপাতা-পিঠ,
শব্দ-শিকারী কবি তারপর বিছানো চামড়ার আতিশয্যে
হয়ে ওঠেন সৃষ্টির সম্রাট।
বাংলার বাড়ন্ত রূপের সাথে জীবন্ত বাঘের পদক্ষেপ দেখতে
একবার কবি এলেন দূরন্তভ্রমণে, সুন্দরবনে
পাখি ও পশুকে বন্ধু ঘোষণা দিয়ে
খুনের বদল ক্ষমার প্রার্থনা করে খুঁজতে খুঁজতে
শুধুই দেখলেন বাঘের পদচ্ছাপ,
নিঃশ্বাসে সেই চেনা লোমকূপ সোঁদা সোঁদা গন্ধ,
কিন্তু অপলক চোখে ব্যাঘ্র-বাসনার সাথে
চোখাচোখি হলো না বলে আজীবন কাঁদলেন কবি,
অহিংস্র চামড়ার পিঠ থেকে পাওয়া খ্যাতির পালক
বাঘকে আদর বোলানোর জন্যে হাহাকার করে কাঁদে...
সশস্ত্র পৃথিবীভরা সদম্ভ শাসনযন্ত্র সমীপে
হয়তো বা লিখে গেলেন কবি একটি সবুজ প্রার্থনা
পশুত্ব খতম করো, তবে পশুকে নয়...।
কবিতা লালন করো, জীবরোখা কবিকেও নিশ্চয়।