সতত সনেট
সতত সনেট
সালেমসুলেরী প্রথমপ্রকাশ : আগস্ট, ২০১২ সাবিরা বিনতে সুলেরী প্রচ্ছদ : ইন্টারনেট অবলম্বনে প্রকাশক : শাহনাজ পারভীন পাসপোর্ট পাবলিকেশন্স মেহেরবা প্লাজা, জি-৪ (৫ম তলা) ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ মুদ্রক : জেনারেশন পিপিএ ফকিরেরপুল, ঢাকা। মূল্য ২৫ টাকা (বাংলাদেশে) ০১ ডলার (অন্যদেশে) ঝঙঞঙঞঙ ঝঙঘঘঊঞ ইু ঝঅখঊগ ঝটখঊজও চঁনষরংযবফ নু ঝযধযহধু চবৎাববহ চধংংঢ়ড়ৎঃ চঁনষরপধঃরড়হং |
পরিবেশক ঢাকা : নিউজ ব্যাংক মেহেরবা প্লাজা, জি-৪ (৫ম তলা) ৩৩ তোপখানা রোড,ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ ফোন : +৮৮-০২-৯৫৭৫২৬০ ব-সধরষ : ????@মসধরষ.পড়স কলকাতা : কবি সম্মেলন / পত্রলেখা ১২ টেমার লেন, কলকাতা ৭০০০০৯, ভারত। আগরতলা : মৌমিতা প্রকাশনী আগরতলা, পশ্চিম ত্রিপুরা, ভারত। নিউইয়র্ক : মুক্তধারা / অবকাশ জ্যাকসন হাইট্স,নিউইয়র্ক ১১৩৭২, আমেরিকা। লন্ডন : সঙ্গীতা লিমিটেড ২২ ব্রিক লেন, লন্ডন, ইংল্যান্ড। টরেন্টো : এটিএন বুক এন্ড ক্রাফ্টস্ ২৯৭০ ড্যানফোর্থ এভিনিউ, টরেন্টো, কানাডা। ওঝইঘ : ৯৮৭-৯৮৪-৫০২-০৪০-০৫
|
উৎসর্গ
সূচিপত্র | সূচিপত্র | সূচিপত্র | |||
সতত সনেট-০১ কবিতা নায়ক সতত সনেট-০২ শোনো হে সম্পাদক সতত সনেট-০৩ পিসি-তে প্রমোদ সতত সনেট-০৪ তার হারা যুগ সতত সনেট-০৫ গুম সতত সনেট-০৬ সকল সূচক নিম্নগামী-০১ সতত সনেট০৭ সকল সূচক নিম্নগামী-০২ সতত সনেট-০৮ নদীহত্যা সতত সনেট-০৯ আসমানী নদী |
সতত সনেট১০ ইলিশিত সতত সনেট- ১১ মাস ১২ ঋতু ৬ সতত সনেট-১২ সততার সতী সতত সনেট-১৩ মৃত্যুর মৃত্যুতে সতত সনেট-১৪ মাথা-খুলি-বল সতত সনেট-১৫ মদিনা সনদ সতত সনেট-১৬ কিবলা বদল সতত সনেট-১৭ জাদু মুখরতা সতত সনেট-১৮ মানুষের রথে |
সতত সনেট-১৯ কলিযুগে রামায়ণ সতত সনেট২০ সিএন টাওয়ারে লেখা সতত সনেট২১ সিয়াটল ছেড়ে সতত সনেট২২ বস্টনে বাঙালিরা সতত সনেট২৩ উত্তরবঙ্গ সতত সনেট২৪ ধান কন্যা সতত সনেট-২৫ সমতল সতত সনেট-২৬ তোয়ালে চেয়েছে নারী সতত সনেট-২৭ যমুনা সকাশে ত্রিজাতির পিতা সতত সনেট-২৮ লালে লাল |
সতত সনেট-০১ |
সতত সনেট-০২ |
|
কবিতানায়ক উঠে দাঁড়ালাম কবিতার বই থেকে পাঠের পুরুষ, শব্দের সুড়সুঁড়ি স্বপ্ন সমেত রং ও তামাশা এঁকে তোমাকে দিলাম বৃষ্টির গুড়গুড়ি।
কবিতায় আমি অমিত শোভিত যুব, নারীকে ডাকছি, মায়া কর্ষণ মাঝে, পাঠিকা আমার মন পবণের ধ্রুব আমাকে ভিজিয়ে ভেবে নিলো আজে-বাজে
শরীর সিক্ত, স্বপ্নে ভেজানো দেহ, কাপড় আঁটানো চোখ কাড়ানিয়া সুখ মাস্তুল পাল, দেহ-পেশী খাড়া বুক প্রেমের ফানুসে ছড়ালাম মন-স্নেহ, শব্দের তীরে শিকারী পুরুষ আমি পাঠিকা তোমার হৃৎ-চোখে উঠি-নামি। |
শোনোহেসম্পাদক দায়িত্ব যার সাহিত্য আর ফসলের পুরো মাঠ গদ্য-পদ্য কবিতা ছাপছো নাকি ছাপো শুধু নাম? কবিতা মেপেছো? সুরের সুষমা, ছন্দের আট ঘাঁট অগোছালো চুল; খোঁজে পরিপাটি ব্যাকরণ সংগ্রাম
মাত্রাবৃত্ত; মৃদু টোকা জ্ঞান, স্বরবৃত্তের ধ্বনি শ্বাসাঘাত মানে একটি মাত্রা; ছন্দ-ছড়ার নেতা অথবা গদ্যে অক্ষরগোণা বৃত্তের সিম্ফনি; মাত্রা মাপার গুণ থাকা মানে কবিতা কুশল জেতা।
ক্ষুধা হলো খিদে, মতো’র প্রয়োগ বাসী ফুল, বাসী বটে, গল্পে এখন পাঁচ ডব্লিও-এইচের খোঁজ রাখা, কি কেন কখন কোথায় কে আর কিভাবে কাহিনী ঘটে প্রতিবেদকের তথ্যের রীতি গল্প-নাটকে আঁকা। বেণী বাঁধা চুল; খানিক বাক্যে প্রবন্ধ সিঁড়ি গাঁথা খোলা মতবাদ, কথা কবিতায় শিল্পে সাজাও কাঁথা। |
সততসনেট-০৩ |
সততসনেট-০৪ |
|
পিসি-তেপ্রমোদ যখন ছিলো না সেলফোন, মুঠোফোন ই-মেইল আকাশ, ফেসবুক দোলাচল প্রযুক্তি রোদ দেখেনি তো দুটো মন মেঘেরা হেসেছে ঝলকিত খোলা জল।
ছিলো ডাকঘর, চিঠি খাম, হাত-লেখা, হৃদয়ে-কাগজে গীতি-সুর মৌলিকে প্রণয়-প্রণয়ী জ্যোতিষীয় হাত দেখা, স্বামী সাধনায় খাঁটি চিঠি বউ লিখে।
লেখনীর যুগ দেখোনি যে যুগ, হাঁটো পিসি-তে প্রমোদ, অস্থির ধোঁয়া ধোঁয়া, প্রশান্ত প্রেম তোমাকে দেবে কি ছোঁয়া? কলেজ খোয়ানো ঝাউতলা জুটি, চাটো স্মৃতির বরফ, ল্যাপটপ ছিলো না যে, ঘানি-খাঁটি-প্রেম ছিলো জীবনের ভাঁজে। |
তারহারাযুগ তার হারা যুগ, অদল বদল দিন। কে যে অবিনাশ, নারীরা ডিম্বাশয়, পৃথিবী এগোলো, আমি কি অর্বাচীন? পাখি কি এসেই বসেছে, কিংবা শোয়?
হাতে হাতে যতো মুঠোফোন, পাখি ফোন, ইচ্ছে মতোন ঠিকানা জাহির করে, তার হারা যুগে কতো যে সংগোপন সম্ভ্রম সেতোÑ বিনোদনে ঝরে; মরে।
তার হারা যুগ, গ্লোবাল ভিলেজ জানি, মানুষ মুক্ত, ছাড়া ছাড়া গতিধারা সতীহারা থেকে কতো নারী পতিহারা, মতিহারা ঢের পুরুষের তড়পানি আগাম পৃথিবী লাগাম দিয়েছে খুলে এগুচ্ছি সব শংকা ও সংকূলে! |
সততসনেট-০৫ | সততসনেট-০৬ | |
গুম পদে পদে এতো মৃত্যুর ফাঁদ, এতো জন্ম মানেই মৃত্যুর চিঠি, জানি, লাশ ভরা খাম, ছিলো তো সমুন্নত, জীবনতো নয় ব্যাংকের কলমানি!
হুট করে ডাকা, লুট হয়ে থাকা, গুম খানা তল্লাশ, নথি নেই কোনো, স্যরি কার অভিশাপে নেমে আসে চির ঘুম কার ঘাড়টিকে বিচারসূত্রে ধরি!
প্রযুক্তি যুগ, অযুক্তি খুন দেখে ভয় পেয়ে গেলেÑ স্বপ্ন হারাবে ধন, ভীতির ঘুড়িতে অগণিত জনগণ অসি আর মসি ঘটনাকাব্য লেখে, নীরব হত্যা, যুদ্ধের চেয়ে ঘৃণ লাশের গন্ধে কাঁদে জল-মাটি-তৃণ। |
সকলসূচকনিম্নগামী-০১ সূর্য ডোবে না¬Ñ সে কথাই জানে সূর্যের পরিবার দিন ও রাতের তফাৎ বোঝে না, বোঝে সে সৌর আলো, সূর্যসেবায় জারিত মানুষ দিন বোঝে সাদাকালো কর্ম এবং নিদ্রা সূত্রে পথ নাই সরিবার।
শাসকেরা সব সূর্য সাজেন, সকালে শক্তিধরা, মানুষেরা জানে দুপুর অবধি ক্ষমতার বাহুবল বিকেলে আপোষ, সন্ধ্যে ছাপোষ, তাগদ অস্তাচল রাতের জনতা নিদ্রার আগে চাঁদেই ভক্তি ভরা...
সূর্য ডোবে নাÑ এই ভাবনায় সূর্য স্বৈরাচারীÑ শাসক তেমন আপন অক্ষে আপনার মতো ঘোরে, অথচ মানুষ সূর্য পূজোয় নিবেদিত হয় ভোরে ঋণ ভরা দিন, নিরাপদহীন, অধিকেরা অনাহারী। সূর্য বোঝে নাÑ মানবজমিনে সূচক নিম্নগামী, শাসনের কালে কতো যে শ্রেষ্ঠ আমি আমি আমি আমি... |
সততসনেট০৭ | সততসনেট-০৮ | |
সকলসূচকনিম্নগামী-০২ কাবিখা হচ্ছে কাজ বিনিময়ে খাদ্যের আয়োজন গ্রাম সাধারণ চাল ও গমের উপঢৌকন পেতে ভিজিএফ আর ওয়েমেস নামে কার্ডে মেখেছে মন, চাহিদার মুখে ফলন সীমিত, ঋণ ফসলের ক্ষেতে।
নদী ভাঙা দেশ, ডাকাতের গ্রাম, কাজহীন যুগে কাঁদে ভাসমান দল, পেশাহীনতায় দারা-পরিবারে ফোঁসে, রাজধানীতেই মায়া হাতছানি, ভিড়ছে কপাল দোষে। পুরোন বাবুরা অতি নাগরিকে নৈরাজ্যের ফাঁদে...
ভূত বিদ্যুৎ; ক্ষীণকায়া গ্যাস, ঘুষ-দুরিতের ঢল, মহা যানজটে আয়ু চলে যায়; বন্ধ্যা নগরায়ন, বাদরায়নের অভিশাপ ছুঁয়ে শেয়ারে খোয়ানো ধন বালিশ খেলার হাতছানি আর গুম-খুনে চোখে জল। উন্নয়নের সড়ক ভগ্ন, পদ্মা সেতুতে ঘামি, সকল সূচক শোকের যাচক, এতো যে নিম্নগামী... |
নদীহত্যা শত মাছ স্বাদে যে নদী সোমেশ্বরী সেখানে মাছের শুঁটকি শুকোন চর, বাংলা নদীতে জল-তো ভ্রমেশ্বরী পদ্মা-যমুনা বালিতে দিগম্বর...
নদীহত্যার মৌসুমে কবিয়াল ভাওয়াইয়া বা ভাটিয়ালি সুর ভুলে মাতম তুলেছে ডিজিটাল ডিজিটাল মরু-মৃত্তিকা মেঘ খোঁজে তৃণমূলে।
নদীদের রূপ ওয়েব সাইটে হাসে বায়বীয় জল উড়ে গেছে ঘুরে গেছে, বৃক্ষ ও মেঘ নিজ যাতনায় কাশে নদীহারা দেশ নীরবেই পুড়ে গেছে। সোমেশ্বরীর সুসং দুর্গাপুরে মানুষের চোখে নদীজল গেলো ঘুরে! |
সততসনেট-০৯ | সততসনেট১০ | |
আসমানীনদী নদীপথে এতো বাঁধের বাহার, জলজট পানিজট, ভূগোলে ভূগোলে চুক্তির ঢেউ, মুক্তি মেলেনি স্রোতে নাবিক জানে না নৌযান তার পথ পাবে কোন্ রো-তে নব নামে তাই নদীকে ডাকলো: জল-পট পানি-পট!
নির্লিপ্ততা, বোবা ঢেউ নদী, নদী মাতৃক দেশে চাষী-মাঝি-জেলে গাঁয়ের সাঁতারু জল যুবতীর দল আকাশে রাখলো তৃষ্ণার চোখÑঅপরূপ আছে ভেসে মেঘের মাদুরে রাজা মহাকাশ, থির থাকা কৌশল।
নেই মিম্বর, খুঁটির বাহার, বাঁধহীন আসমান, তারকারাজিতে রাঙা পরিবার, রোদ-চাঁদ গড়াগড়ি, অন্তরীক্ষ, এবারে নামাও মই-নদী সরাসরি, পাহাড়-ঝর্ণা দূর পথে নয়, খাড়া নদী ভাসমান। জল কূটনীতি গতি বেঁধে রাখে, মরু-মগ্নতা যদিÑ প্রভু মহাকাশ, গরীবের দেশে পাঠাও আকাশ-নদী। |
ইলিশিত বাংলার সাথে মিশে আছে কিছু ঐতিহাসিক পাখি তারাও বাঙালি, ধুরীণ প্রজাতি, হয়তো বা কেউ গাছ, হয়তো বা কেউ স্বাদ-উপভোগে নাম নিয়ে আছে মাছ হয়তো বা নদী পদ্মা-মেঘনা, জীবে-জলে মাখামাখি।
বাংলার আছে ভাষা সহযোগ: অহম উড়িয়া বোড়ো, নাগাদের পাশে নাগরী সিলটী, পাহাড়ী বা আরাকান, আছে ভাটিয়ালি, রবি-নজরুল, লালনে-হাছনে গান আছে খুঁটি সব পতাকা ওড়ানো, মাটি খোঁড়া দিন, খোঁড়ো
বাংলার আছে প্রতœতত্ত্ব , উয়ারী-বটেশ্বর পৃথিবীর সব দেশে দেশে আজ বাঙালির প্রবসন, তন্মনস্ক কবি কারুকার, নটসেবা; প্রহসন মাছে-ভাতে দ্রব বাঙালির শ্লোক ঘটনা ঘটেশ্বর... বোশেখ অথবা টানা বর্ষায় রূপের ইলিশ, প্রীত পান্তা-প্রসাদ, স্বাদ-আহ্লাদ, বাঙালিতো ইলিশিত! |
সততসনেট- ১১ | সততসনেট-১২ | |
মাস১২ঋতু৬ আকাশ তারকা বিশাখার নামে বোশেখে বর্ষ শুরু, হালখাতা-ঝড়, তাপ অতঃপর জ্যৈষ্ঠের মধুমাস ফলরস শেষে ভূমিরসে ভাসা আষাঢ়ে প্লাবন গ্রাস, কদমের ফুলে শ্রাবণ শোনালো প্রকৃতির ডম্বুরু।
বর্ষা বিদায়ে ভাদর চাদর, তালপাকা গরমের তুলো পেঁজা মেঘ, কাঁশফুল ভরা আশ্বিন আগমন, মরা কার্তিক, মঙ্গা মুখর সুখ ভাগো ভাগো মন... অগ্রহায়ণ, ফসল স্বপ্নে সিঁদ কাটে চরমের।
পৌষের হাসি, আহা পৌষানি, নাড়ী ছেঁড়া ধান-পিঠা, নবান্ন দিন, মাঘে-শীতে লীন, অতিথি পাখির ভীড়, লাল ফুল ফোটা ফাগুন বরণী প্রাণ ছোঁবে সুগভীর, সংক্রান্তির বিদায়ী চৈত্র, রোদ তাপে তিতা-চিটা। দখিনা পৃথিবী গ্রীষ্ম-বর্ষা শরৎ-হেমন্তেও পার্বণ-ধ্যানে সদা অবিচল, শীত বা বসন্তেও! |
সততারসতী কতো ঘর গড়বর, কতো গুম নির্ঘুম জাগে, কতো গতি দূর্গতি, কতো বাঁক নির্বাক থামে। কতো নাম দুর্নাম, কতো সুর অমধুর রাগে কতো ঠাঁট বিভ্রাট, কতো গীতি বিকৃতি ঘামে...
কতো স্বাদ বিস্বাদ, কতো দম উদ্যম নেভে কতো তেজ নিস্তেজ, কতো বল দুর্বল খেলা কতো গুণ নির্গুণ, কতো ভার নির্ভার ভেবে কতো জন মহাজন কতো সুদ বুদ্বুদ্ বেলা!
কতো জ্ঞান অজ্ঞান, কতো নীতি রাজনীতি তলে কতো মুখ উজ্বুক, কতো গাল গালাগাল ভরা, কতো শব উৎসব, কতো দেশ বিদ্বেষ, ধরা কতো দিন দূর্দিন, কতো পল উৎপল ছলে! কতো বন পত্তন, কতো রাজ কবি-রাজ ভনে, কতো বীর অগভীর, সততার সতী-ব্যাকরণে! |
{pagebreak}
সততসনেট-১৩ | সততসনেট-১৪ | |
মৃত্যুরমৃত্যুতে মৃত্যু কখন মৃত্যুকে খাবে, জল্লাদ দেবে জান! যম যবনিকা, প্রাণবধ-পেশী, আজরাইলের দম কখন গিলবে প্রাণহরণের বিষধর গন্ধম! বধ-প্রপঞ্চে আপন যাতনা শুনবে তাদের কান!
পুরোধা পৃথিবী মৃত্যুপ্রবণ, জন্মমুখর বটে পরিসংখ্যানে জন্মের হারে পাল্লা অধিক ভারী, স্মৃতির ওজন, মায়া কর্ষণ, হৃদয়-আকাশ বারী মৃত্যুতে শোক, মহামায়াময়, মহাজাল অকপটে।
প্রজন্ম যুগ নতুনের মেলা, পুরাতন রেলে এসি, পুরাতন খোঁজে পালানোর দোয়া, ঐশী প্রত্যাদেশ, স্মৃতি ও কর্মে ইতিহাসাকাশ, থরে থরে সন্দেশ নতুন মোড়কে পুরাতন গাথা, ছায়াকপি; পাইরেসি! অরুণ তরুণ নেশাতে নষ্ট, নকলে জীবন ঘোড়া মৃত্যু তুমিও নাও চিতা-খুন, অথবা কবর খোড়া... |
মাথা-খুলি-বল মৃত্যুর মাঠে যে খেলা খেলতে নামলাম শরীরে জড়ানো সন্তের সাদা জার্সি, এতো খেলোয়াড়, কতো কসরত পারছি হয়তো মাপছো কতো মহাপাপ ঘামলাম! জীবন-মৃত্যু, মাঝখানে সেতু, প্রাচীরের, খেলছি এপাশে, ওপাশে স্বজন কাঁদছে, রান্নাও আছে মসলা-আমিষ বা জিরের শ্রাদ্ধ কিংবা চেহলাম ভোজ রাঁধছে।
জন্ম-জিয়ানো, জন্ম জাগানো খেললাম, আগুন নেভানো পানি খেলি দমকলে, উচ্চলম্ফে ওপাশে স-বেগ ফেললাম একি কালো মাঠ, ভিজে আছে কম জলে! গোড়ালি গড়তে জাম্বুরা বল, কৈশোর মাথা-খুলি-বল, মৃত মাঠে খুঁজি অই শোর...! |
সততসনেট-১৫ | সততসনেট-১৬ | |
মদিনাসনদ মদিনা সনদ যদি না আবার ফিরে আসে পৃথিবীতে রক্তের হোলি, বিরোধের বাঘ, বলাৎকারের নেশা দাঙ্গা-দখল ফ্যাসাদ-ফতোয়া পাপাচার নীতি দিতে গোত্র-রাষ্ট্রে বর্ণ ভাষায় সমাজ বিভেদ ঘেঁষা।
বিবাদ তাড়াতে, বাড়াতে দু’হাত সব জাতি এক সুরে মদিনা সনদে এঁকেছে ঐক্যÑ ইহুদী-মুসলমান, পৌত্তলিকের পূজাবাদী আর খৃষ্টান এলো ঘুরে, বাহুতে লহুতে মিলনে বাড়ালো শক্তি ও সম্মান।
পৃথিবী প্রথম দেখেছিলো এক লিখিত সংবিধান সাতচল্লিশ ধারার শরীরে সম্প্রীতি রঙ আঁকা, জাতিসত্তার ওপারে মানুষ, মানবীয় রঙ নিদান আপনার মতো আপন ধর্ম, সৃজিত বিজিত থাকা। থাকেনি সে যুগ মদিনা সনদে, বহির্শত্রু টানা কতো যে সনদ এলো গেলো হায় প্রশান্তি ফুটো-কানা। |
কিবলাবদল কিবলা কি আর একদিকে ছিলো? বদল হয়েছে দিক, ধর্ম যখন ফর্মে দাঁড়ালো, কর্মে দেখালো নীতি, কা’বাঘরমুখী ইবাদতে গেলো মুসলিম চারিদিক কিবলা যদিও বদল করেছে উত্তর রাজনীতি।
ছিলো বায়তুল মোকাদ্দাসের প্রতিও একদা নতি, ধর্ম নিয়েছে মহা-ইমামের ছোঁয়া-স্মৃতি অন্তিম, যে নবী ছিলেন অগ্নিতে ছোড়া, হিজরতে অধিপতি কা’বা ঘর যার ছিলো সম্ভার মাকামে ইব্রাহীম।
সৃষ্টিকর্তা যার সততার দেখেছেন বট-ছায়া প্রিয় পুত্রকে কুরবানি দিতে যাঁর মন দ্বিধাহীন, তাঁর ধ্যান ধাম মদিনা মাটিতে শ্রেষ্ঠ মহিমা মায়াÑ মহানবী তাই মাগিলেন দোয়াÑ কিবলা এখানে দিন। এলো অহি শেষে জিব্রাইল হয়েÑ থির হলো কা’বা ঘর, রাজনীতি কেনো কিবলা বোঝে না? বোঝে শুধু দাবা ঘর! |
সততসনেট-১৭ | সততসনেট-১৮ | |
জাদুমুখরতা জাদু বিদ্যার কুফুরী কালাম বার বার আসে ফিরে, যেমন ছিলো তা বাবল্ শহরে নবীযুগ, আদি কালে, ফিলিস্তিনের মহাসম্রাট সোলায়মানের হীরে শান-শওকত ম্লান হয়েছিলো বাজিকর জাদু তালে।
শিল্পকলার জাদু বিনোদন হুডিনীর পথে হাঁটে, অন্যকলার বুনো জাদুকর নবীদের ছায়া সাজে, মহামানবের পাশাপাশি তারা মোহর বাতাসা বাঁটে নবীর মোজেজা ভেবে সাধারণ কাঁদে ভনিতার ভাঁজে।
জাদু এসে গেছে রাজনীতি আর সমাজের পলে পলে প্রকৃত মেধাবী মঞ্চ না পেয়ে আঙিনায় বসে থাকে, কথা জাদুকর টাকা জাদুকর মুখরতা ছলে-বলে বাহারী পোশাক, গন্ধ-বিতান... ভক্তও ঝাঁকে ঝাঁকে হারুত মারুত ফেরেশ্তা নেই, মন ফেরাতেন যাঁরা, জাদু ছলা-কলা না বোঝা সমাজ আধুনিকে পথহারা। |
মানুষেররথে রাবণেরা ভাবে মৃত্যু ছোঁবে না দেহ ব্রহ্মা দিয়েছে প্রতিশ্রুতির বর যক্ষ-দেবতা-রাক্ষস আর কেহ গন্ধর্বের কেউ নয় বিষধর।
প্রাণবধে নেই এই চার মহা যম, রাবণেরা তাই পৃথিবী মুঠোয় নেয় যাচ্ছে তাই-এর উল্লাস; সমাগম সাধারণে শুধু অবিচার অন্যায়।
পাপ মিলে মিলে মহাপাপ রাবণের জন অভিযোগে ব্রহ্মা দেখালো পথ বিষ্ণুকে বলে, পথ রোখো প্লাবনের চার যম নেই, মানুষের খোলো রথ। রাম এসেছিলো, সাথে তিন সহোদর, রাবণ নিধন। নেভেনিতো বর্বর... |
সততসনেট-১৯ | সততসনেট২০ | |
কলিযুগেরামায়ণ ‘মেঘনাদ বধে’ অনেক মজেছি, এবারে নতুন পালা গণতন্ত্র যে বধের বিপদে, কলিযুগে রামায়ণ... আমজনতা বা রাম-জনতার লহুতে নতুন পণ, সংবিধানের অগ্নি-সীতাকে পরাবে মুক্তি-মালা।
পরদেশী প্রভু রাবণ এবং তোষামুদে মেঘনাদ দেখেছে দ্রাপড়; ত্রেতা বা সত্য অবশেষে কলিযুগ, রাজনীতি সেতো বাঘা বিভীষণ! কারা তবে উজবুক? জিতেও হারছে রাম-জনতারা, শান্তি সড়কে ফাঁদ!
জনককে যদি দশরথ বলি, ঘোষককে লক্ষ্মণ, কৈ-কেয়ী হয়ে বামেরা এবং সুশীল সমাজও হাঁটে, নেতা নিধনের নিয়তির দেশে খুন-গুম-ভক্ষণ তদন্ত দল কুম্ভকর্ণ, অযথা লেজুড় চাটে! ফোঁসে হনুমান জঙ্গী-জোয়ান, সুগ্রীবও টন টন সংবিধানের সীতা হরণের শোধ নেবে জনগণ। |
সিএন টাওয়ারেলেখা টাওয়ার অনেক আছে, দেখবার কতো আয়োজন, সুদূরে দু’চোখ মানে নিজেকে উড়িয়ে হাঁটা, জলপ্রপাতের ছোঁয়া খোঁজে দূরবীণ, মন দেড়শ’ তলার থেকে নিচে চোখ শিহরণে গা’টা
মৃত্যু ভয়ের চেয়ে আঘাতের বিবমিষা কাঁপে, তবুও মানুষ ওঠে, মগজে পেরেক ঠোঁকে নিউরন হিমালয় জয় করা উচ্চতা ভীতিহীন তাপে টাওয়ার ভ্রমণে যেন পাখি, পিউ পিউ মন!
ঘুরে ফিরে কানাডায়, সিএন টাওয়ারে উঠে পড়ি, দেখার ভাবার পাশে মেতে ওঠে লিখবার ধ্যান, দেড়শ’ তলায় বসে ভুলে যাই সময়ের ঘড়ি, মগজ খেলছে ল্যাপটপে, ফোঁসে বিয়ারের ক্যান। অদ্ভুত রেস্তোরাঁ এক সদা ঘূর্ণায়মান কবিতা দারুণ খোলে; যেন সে পূর্ণ জায়মান! |
সততসনেট২১ | সততসনেট২২ | |
সিয়াটলছেড়ে সিয়াটল থেকে ফিরবার পথে মেঘ নেমে এলো চোখে আনন্দদিন, হ্রদ-পানি সব ফেলেও ওয়াশিংটন পিছু নিলো আর পিছু ডাক পাড়ে, ওয়েলকাম রিং টোন, আমি তার প্রেমে, নাকি তার প্রেম ভ্রমণকারীতে ঝোঁকে!
উভচর গাড়ি, ডাঙাতে ভ্রমণ, পাহাড়ি-শহুরি হাল, প্রশান্ত নীল মহাসাগরের চোখকাড়া উপকূল, ভবনের নামে জঙ্গল নয়; বস্তির কালি-ঝুল কালিমাও নেই; ভোগের রোগে বা কফি-শপে উত্তাল।
থিয়েটার আর মাছের ম্যাজিকে বোয়িং-বিমানে পাড়া নিসর্গ তার ত্রিÑসর্গকে এখানে বসেই আঁকে, উভচর গাড়ি জলেও সচলÑ ধনী পাড়া, লেক বাঁকে বিল গেটস্দের মহা-আবাসন চোখের নাগালে খাড়া। মহাসাগরের প্রফুল্লবীণ, কতো জন প্রবাসিত, তবু ফিরে আসি মহাপ্রাণঘন স্ব-ভূমে উল্লাসিত! |
বস্টনেবাঙালিরা বস্টনে এতো লেখাপড়া ঘর, উর্বর, খ্যাতনামা ডাকে হার্ভার্ড, কারিগরীতেও সেরা আঙিনার সারি, শিক্ষা শহরে অনেক শরীরে কবিতা প্রধান জামা বাংলা লালনে অসংখ্য মন সানন্দে সংসারী। প্রবাসে কতো যে ভাষা জাগানিয়া উদ্যোগ, আবাহণ সাদা ইউরোপ, মহা আমেরিকা, মরু আরবের পাশে কালো আফ্রিকা, বিদেশ বিভুঁ’য়ে বাংলা ভজানো মন, বাঙালিরা নানা মেলা-পার্বণে ঐক্যের হাসি হাসে।
বস্টন মানে নিউ ইংল্যান্ড, ম্যাসাচুয়েট্সে থিতু, চার্লসের জলে পদ্মা-মেঘনা-গঙ্গা-যমুনা খোঁজে। বাঙালি সেখানে বাঘ মহিমায়, বোধে নয় বাপু ভীতু ভিন-গোলার্ধে ঋণ পরিশোধে মাতৃ-মাটিকে বোঝে। ‘লেখনী’ নামের আরেক ঐক্য, সৃষ্টি কলার দল, বস্টনে ডাকে বাঙালি কবিরা মেখে দিয়ে মায়াজল! |
সততসনেট২৩ | সততসনেট২৪ | |
উত্তরবঙ্গ নীলফামারীর নীলাকাশ ফেলে নিউইয়র্কে পাড়ি নীলসাগরের দীঘিজল নয় বাদা বা অকর্ষিতা, আটলান্টিক সমুদ্র্র বা বারদরিয়ার মিতা ধরো কি এখনও লুঙ্গি অথবা দেশোৎপন্ন শাড়ি?
ম্যানহাটনের শ্রমজীবী মুখ, জীবনের সাবওয়ে ঘরের থালা কি শুঁটকি-সিঁদলে দিচ্ছে স্মৃতির স্বাদ, অত্যাধুনিক প্রজন্ম-জন আছে নাকি বরবাদ? আছো কি প্রবাসী সত্যিকারের জননী বা বাপ হয়ে!
অট্টালিকার আকাশ ছুঁয়েছো, পল্লীগীতি কি ভাসে, বার-নারীদের মুখ-কে সরিয়ে বেগম রোকেয়া খোঁজা, স্বদেশে-প্রবাসে দুই নৌকাতে দুই চোখ আধ বোজা স্ট্যাচু অব লিবার্টি হায় দুর্বেদ হাসি হাসে! উত্তর আমেরিকাতে সচল উত্তর জনপদ, বেদনায় নীল তিস্তা-সালকী, খোয়া গেছে সম্পদ! |
ধানকন্যা শুয়ে আছি খড়ের গাদায়, কুয়াশায়, ধানক্ষেতে। চোরের হিড়িক তাই পাহারা বসানো রাত কাটে। সকাল ছুঁয়েছে খিদে, হৃৎ-পেটে শুনি কান পেতে নতুন ধানের পিঠা জুটবে কি কপাল কপাটে?
চারদিকে ধান বাগানের ঢেউ, নিধুয়া পাথার, উনুনবিহীন কাঁচা ধানে ঘ্রাণেই আধাভোজন, খিদের কামড় শেষে খেতে চায় মগজ মাথার, কোথায় তরুণী সেই, পিঠা’ওলি, যোজন যোজন
দূর থেকে গতকাল এসে বিকিয়েছে ভাঁপা পিঠে কতো স্বাদ, আহলাদ! খড়ের ছাউনি পাতা ঘর বিরাণ সবুজ মাঠে অবুঝ তরুণী শাপে-বর। পিঠের স্বাদের পাশে হাসিÑ কথা কি যে মিঠে মিঠে... ফেরী’ওলি, আজ এসে হেঁকে ওঠো মনের নিলাম বিনিময়ে ধানশীষ সংসার তোমাকে দিলাম! |
সততসনেট-২৫ | সততসনেট-২৬ | |
সমতল হিমালয় পাশে বুনো ছোট বোন রূপসী দার্জিলিং গোড়ালিতে তার আবাস আমার, ভূমিধ্বস ঝুলে থাকা, বন্ধু থাকেন পাহাড় উঁচুতে, মাথায় গর্ব শিং সূর্য পূজোয় মাথা আরো উঁচু, বুক জামা খুলে রাখা।
পাহাড়ের ঠিক পাদদেশে থাকি, গুণছি পর্যটক লক লক করে ওঠে আর নামে, বন্ধু কি নামবে না? খবর পাঠিয়ে আমাকেই ডাকে, স্বপ্ন বিবাহ তক... আমাকে উঠিয়ে সংসারে নেবে, মতিভ্রম; থামবে না!
আমার তো নেই উচ্চতা ভীতি, উঁচুতে গিয়েছি ঠিক, ভালোলাগা মেখে নেমেও এসেছি, যেতে চাই বহু দূর, মনের শেকল ছিঁড়েছি দু’হাতে, দৌঁড়াবো চার দিক পাহাড়ের পথ দ্রুত শেষ হয়, চূঁড়োতে রহিত সুর। এসো হে বন্ধু প্রাণ-পাদদেশে, বলো না’ক ভ্রম তল, চোখ-পা মনের বিজয় বাগাতে সু-সবুজ সমতল। |
তোয়ালেচেয়েছে নারী স্নানঘর থেকে মৃদু চিৎকারে তোয়ালে চেয়েছো যেই ভাবনা নামের প্রাণঘরে বসে খুলেছি দৃশ্যপট পরীর শরীরে গভীর দু’চোখ গেঁথে গেছে অকপট, দেহের আগুন খোলা কবুতরে, আমি নেই আমি নেই।
গোয়ালে যেমন গাভী খুলে আছে ওলানে দোলানো বাট তোয়ালে ছাড়া কি তুমিও নাগিনী ঠোঁট-কামড়ের জিভ, খোলস ছাড়ানো দেবীর সেবাতে পুরুষ পূজিবে শিব পুকুরে নারীর পোশাক হারালে হেসে ওঠে স্নানঘাট।
আমিতো হাসিনি, শুধুই বেসেছি ভাবনার নারীটিকে ভেজা আধভেজা পোশাক ছাড়িয়ে পালক খসানো দেহ, আধো জোসনায় নারীর মূর্তি বশ করে বাড়িটিকে তোয়ালের ভাঁজে খোঁজে কিসে প্রেম? ফুঁসে ওঠে সন্দেহ! স্নানঘর নাকি হাম্মামখানা, সাবান নিয়েছে নাকি? তোয়ালের সাথে আছে কোনো ডাক; অথবা নাটক; ফাঁকি! |
সততসনেট-২৭ | সততসনেট-২৮ | |
যমুনাসকাশেত্রিজাতিরপিতা তিন জাতি পিতা বিংশ শতকে যমুনা অতট তীরে, বৃটিশ বিরোধী গান্ধী-জিন্নাহ্, মুজিবের পদরেখা ভারত-পাক ও বাংলাদেশের তিন প্রধানের দেখা সিরাজগঞ্জে মাটি-মানুষের স্মৃতি পোড়ে ধীরে ধীরে।
কংগ্রেস শেষে মুসলিম লীগ, স্বরাজ পার্টি, দোলা এলেন নেতাজি, দেশবন্ধুও, জমিদারী নিয়ে রবি, আব্বাসসহ যুব নজরুল সানবাঁধা গান-কবি বাণিজ্য-বর বিড়লাও এসে বন্দরে পাল তোলা...
‘অনল প্রবাহে’ চেতক সিরাজী, অবিচল বিদ্রোহে ভাসানী জনম, তর্কবাগীশ, ভাষা মতিনের নূর গণিতে যাদব, শোণিতে হিলালী, ক্যাপ্টেন মনসুর সালঙ্গা মায় দেশ-মাটি-জয়Ñ ছবি উঠে আছে গ্রহে... সেতু বিশালতা, শিল্পে লোহানী, সুচিত্রা সেন, গাথা যমুনা ভাঙন; ঢাকে ইতিহাস অথান্তরের কাঁথা! |
লালেলাল
মানুষ গড়ার আঙিনা অবাক, লাল ঝান্ডার সারি লাল সিগনালে প্রতিবাদী লাল, দেহ-মন-চোখ ভারী। লালখান আছে, লালপুর আছে, লালবাগ আছে, আরও লজ্জা কিশোরী লাল হয়ে ওঠে গাল ভরা অভিমানে, মৃদু অপরাধে শাস্তি-কিশোর, লাল গোণে ঝাল কানে! লাল বাংলার ইতিহাসাকাশ বড়ো রক্তিম, গাঢ়। ঝলসিত সব বস্তি-জীবন, লালায়িত জিভ ঢের গৃহিণীকে খুন, স্বর্ণ লোপাট, মুক্তিপণের চল, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে লাল ভাসে অবিরল! শহরের সব উঁচু বাড়ি-ঘরে ঢালছে লোভের জের। মুহুরি দুবলা কুকড়ি মুকড়ি চর জব্বার, মানে খেলে লাঠিয়াল, খেলে ভূমি খেলা, ফেলে লাল লাশ ধানে, স্বাধীনতাময় সবুজ পতাকা, সূর্যের লালে হাসে, শান্তি কোথায়? জীবনের রঙ লালে লাল সন্ত্রাসে! মানুষ গড়ার আঙিনা অবাক, লাল ঝান্ডার সারি লাল সিগনালে প্রতিবাদী লাল, দেহ-মন-চোখ ভারী। |