Print

সম্পাদক ও লেখক

লেখায় তেনার কেবল হাতেখড়ি

ভুল বানানের বেজায় গড়াগড়ি,

সে সব নিয়েই ছোটেন তিনি

সম্পাদকের অফিস সরাসরি।

তাবৎ লেখা সম্পাদকে দেখেন,

হেসে বলেন আরো বেশি লেখেন,

ছাপতে হলে ভালো করে

মাত্রা-তালের সঠিক প্রয়োগ শেখেন।

নতুন লেখক নতুন লেখা নিয়ে

অফিস গিয়ে রোজই জমা দিয়ে

অনুরোধের সুরে বলেন

দিন না আমার লেখাটা ছাপিয়ে।

টেবিল জুড়ে নিজের লেখা জটান

সম্পাদকের  হৃদয় যতই পটান,

একই কথা বলে কেবল

সম্পাদকে থাকেন বসে সটান।

একটা জমা, দুটো জমা শত

নতুন লেখক লেখেন অবিরত।

হঠাৎ করে মধ্যিখানে

একটা লেখা হলো ছাপার মতো।

সম্পাদকে ছাপেন সেটা সত্বর

আনন্দে তার ভরলো হৃদয়-চত্বর।

এবং লেখক লিখেই চলেন,

ছাপলো আরো বুঝি বা ষাট-সত্তর।

একশ ছাপে; দু’শ ছাপে, হাজার

পেলেন তিনি অস্বাভাবিক বাজার।

চতুর্দিকে লেখা ছেপে

ভাবটা হলো যেন মহারাজার।

আসেন না আর সম্পাদকের কাছে

এখন কি আর সময় তেনার আছে?

সম্পাদকই লেখা চেয়ে

ঘোরেন তেনার আগে এবং পাছে।

বড় লেখক কার কথা যে শোনে।

সম্পাদকে বলেন টেলিফোনে

একটা লেখা চেয়েছিলাম,

কথাটা কি আছে এখন মনে?

দিন না লেখা নামটা আরো রটান

লেখককে যে সম্পাদকই পটান,

ব্যস্ত আছি, এটুক বলেই

লেখক সাহেব থাকেন বসে সটান।