কুসুমের ফেরা
নগরীর কিশোরটি ধান চেনে না,
বাসা তার চাল কেনে, ধান কেনে না।
বাজারেও ধান নেই, খড় নেই আর
তুষ-ঢেঁকি-হাতকল চেনা নেই তার।
ধানের জমিন-চাষ ভালো বোঝে না,
বীজ-চারা-কৃষকের কথা খোঁজে না।
নগরীর বালিকাটি ছাই চেনে না,
গ্যাস-চুলো ভরা বাসা, কাঠ কেনে না।
মাটির চুলোতে রাঁধা পিঠে-পুলি আর
আলু পোড়া, মাছ পোড়া স্বাদ পাওয়া ভার।
চেনে না জোনাক পোকা, মেঠোপথ কি?
চেনে তবে জানা নেই দুধে হয় ঘি।
দুধের দোহন নিয়ে ভাসা ভাসা জানে
পাখিদের কতো ডাক কানে কে’বা আনে।
চেনে পান-সুপুরি বা সাদা চুনে ঝাঁঝ,
বরোজের পান চাষ, সুপুরির গাছ
চেনা নেই বন টিলা, ‘কুবলাই’ ডাক
কতো জাতি-গোষ্ঠীর গ্রামে ডাক-হাঁক!
কতো সুর সুমধুর, ফুল-পাখি-মাঠ
নগরীর শিশু-চোখে নেই নদী-ঘাট।
ফুলের বাগান কই? ফুল চেনে কিছু
প্লাস্টিক, কাগজের ছোটে পিছু পিছু।
ফুলেল জীবনগুলো ইট-শিকে ঘেরা,
ঘরে ঘরে চাই তাই কুসুমের ফেরা।
সব ঘরে টব হোক বই হোক কেনা,
দেখা হোক, জানা হোক যা কিছু অচেনা।
# ঈষৎ পরিবর্তিত, জানুয়ারি, ২০১৫